ভিনিউজ : স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্বের জন্য প্রশংসা পান দীপিকা। কিন্তু একটা সময়ে নিজের খোলস থেকে বেরিয়ে এসে মন খুলে গালাগাল দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। কী এমন ঘটেছিল? দীপিকা পাড়ুকোনের মাধুর্যে মুগ্ধ অনেকেই। স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্বের জন্যও প্রশংসা পান তিনি। কিন্তু একটা সময়ে নিজের খোলস থেকে বেরিয়ে এসে মন খুলে গালাগাল দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। কী এমন ঘটেছিল? এক সাক্ষাৎকারে জানালেন জয়তী ভাটিয়া।
‘ককটেল’ ছবিই দীপিকার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল বলে মনে করেন অনেকে। তার পরেই তিনি সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ‘রামলীলা’ ছবিতে কাজ করেন। জয়তী ভাটিয়া জানিয়েছেন, ‘রামলীলা’ ছবির আগে দীপিকাকে চরিত্রের জন্য প্রস্তুত করার দায়িত্ব পড়েছিল তাঁর উপর। জয়তী জানান, দীপিকার সঙ্গে তাঁর সাত দিন ধরে ওয়ার্কশপ করার কথা ছিল। প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। ভন্সালী তাঁকে বলেছিলেন যে, এই সময়ের মধ্যে দীপিকাকে তাঁর খোলস থেকে টেনে বার করতে হবে।
জয়তী বলেন, “ওর সঙ্গে কাজ শুরু করার পর দেখলাম, ও ভীষণ নিষ্ঠা আর উদ্যম নিয়ে সব কিছু করছে। চার দিনের মাথায় আমি ভন্সালীকে বলেছিলাম, ‘স্যর, ‘ককটেল’-এর পরে ও একজন নির্ভীক অভিনেত্রী হয়ে উঠেছে। এত দিন ধরে ওয়ার্কশপ করালে শুধু ওর আর আপনার সময় নষ্ট হবে। আপনি শুটিং শুরু করে দিন। আপনি যা বলবেন, ও তা-ই করবে। ও নিজেকে গড়ে নিতে পারে সহজেই।”
ওয়ার্কশপের একটি ঘটনার কথাও জানান জয়তী। তিনি এমন একটি অনুশীলন করিয়েছিলেন, যেখানে দীপিকাকে মন খুলে গালাগাল দিতে হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, ক্যামেরার সামনে যেন কোনও সঙ্কোচ না থাকে। জয়তীর কথায়, “আমি নিজেও খুব বেশি গালাগাল দিতে পারি না। তাই প্রথমে আমি নিজেই সেটা করে দেখাই, যাতে দীপিকা বুঝতে পারে।”
তিনি জানান, ভন্সালীর অফিসে একটি বারান্দা ছিল। নীচে একজন খাবারবিক্রেতা বসতেন। জয়তী সেই দিন দীপিকাকে বলেন, “বারান্দায় দাঁড়িয়ে জোরে জোরে গালাগাল দাও। নীচের দিকে তাকাবে না।”
তার পরে দীপিকা গালাগাল দিতে শুরু করেন। জয়তীর কথায়, “ও দরজা খুলে গালাগাল শুরু করল। আমি যে জায়গায় থামতে বলেছিলাম, ও সেখানে থামেনি। আরও অনেক কথা বলল। এমন সব গালাগাল দিল, যা আমি কোনও দিন শুনিনি। যা যা শুনে এসেছে, সব যেন বেরিয়ে এল। তখন আমি শুধু বলেছিলাম, ‘বাহ!’”
জয়তী আরও জানান, সেই সময়ে দীপিকা অবসাদের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কাজের সময়ে তিনি তা কখনও বুঝতে দেননি। তাঁর কথায়, “তখন আমি জানতামই না যে ও অবসাদের সঙ্গে লড়ছে। ও নিজেও কিছু বুঝতে দেয়নি।”




