টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল : পাঁচ দিনে প্রাণ গেল ৩৩ জনের

 

ভিনিউজ ডেস্ক: টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে ভয়াবহ দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে। গত পাঁচ দিনে বৃহত্তর চট্টগ্রামে পাহাড়ধস, দেয়াল ধস ও পানিতে ডুবে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সিলেট অঞ্চলেও নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে আগামী দু-এক দিন সারা দেশেই ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধস এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত পাঁচ দিনে জেলায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে এক হাজার ২০ দশমিক ৯ মিলিমিটার। টানা বর্ষণে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। শুধু সাতকানিয়াতেই প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।

দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং তিন দিনে ১৮টি আন্তনগর ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও উত্তর চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড়ধসে একটি শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবুও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড়ধসে চাচাতো ভাই-বোনসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বন্যার পানিতে পড়ে আড়াই বছরের এক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী এলাকার প্রায় সাত লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। বন্যার কারণে তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও সাজেক এলাকাতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুই দিন ধরে আটকে থাকা ৫৬১ পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৫০ জনকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে।

খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেক, বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলেও টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত শুকনা খাবার মজুত রয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

খুলনা মহানগরীতেও ভারি বর্ষণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা

পূর্বের খবরমরক্কোর স্বপ্ন গুঁড়িয়ে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স
পরবর্তি খবরমোদীর অস্ট্রেলিয়া সফর : ভারত-অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তাসহ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!