ভিনিউজ ডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য, দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে কয়েক সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে বুশেহর, বন্দর আব্বাস, কোনারাক ও চোগাদাকসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালায়নি।
এদিন মাশহাদে সমাহিত করা হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। শোকযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা স্লোগান ও ব্যানার দেখা যায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসবের মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইরানের দাবি, ৮ ও ৯ জুলাইয়ের মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি হামলায় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগে ব্যবহৃত একটি রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাছেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন আহত হয়েছেন। জর্ডানও জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে।
এদিকে কাতার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক, ওমান ও পাকিস্তানও সংঘাত আরও বিস্তৃত না করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে দুই পক্ষ। ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, তাদের তত্ত্বাবধানে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌপথ সচল রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




