ভিনিউজ স্পোর্টস ডেস্ক :
২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও কোয়ার্টার ফাইনালের আগে হঠাৎ করেই টিকিটের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। বিশ্বকাপের শেষ আটের ম্যাচ, দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনালের টিকিটের চাহিদা সাধারণত সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। বিভিন্ন টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মের তথ্য বলছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ মাঠের লড়াই নয়, বরং কয়েকটি জনপ্রিয় দলের বিদায়। বিশেষ করে পর্তুগালের বিদায়ের ফলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে আর বিশ্বকাপে দেখা যাবে না। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ফুটবলারের উপস্থিতি ঘিরে যেসব ম্যাচে দর্শকদের আগ্রহ ছিল, সেগুলোর টিকিটের চাহিদা দ্রুত কমে গেছে।
এর পাশাপাশি বড় প্রভাব ফেলেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়। শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দুই আয়োজক দেশ কানাডা ও মেক্সিকোও নকআউট পর্বে টিকতে পারেনি। ফলে স্থানীয় দর্শকদের একটি বড় অংশের আগ্রহ কমে যাওয়ায় টিকিটের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
টিকিট সার্চ ইঞ্জিন ‘সিটপিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দাম গড়ে ৩১.৫ শতাংশ কমেছে। আর শেষ তিন দিনের হিসাবে কিছু ম্যাচের টিকিটের মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে পুনর্বিক্রির জন্য টিকিটের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর সময় যেখানে শেষ আটের ম্যাচগুলোর প্রায় ২৮ হাজার ২৮৫টি টিকিট পুনর্বিক্রির তালিকায় ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪৯ হাজার ৪১৫টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আগাম টিকিট কেনা অনেক দর্শক এখন সেগুলো বিক্রি করে দিতে চাইছেন।
শুধু কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের টিকিটের বাজারেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ জুন দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনালের টিকিটের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু এরপর থেকে দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম সেমিফাইনালের টিকিটের দাম বা চাহিদা ৪২ শতাংশ এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ক্ষেত্রে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফাইনালের টিকিটের দামও প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্বকাপের শেষ চার নিয়ে সম্ভাব্য সমীকরণও টিকিটের বাজারে প্রভাব ফেলছে। সম্ভাব্য প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও স্পেন এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জনপ্রিয় তারকা ও স্বাগতিক দেশগুলোর অনুপস্থিতিতে প্রত্যাশিত দর্শকচাহিদা তৈরি হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকিটের এই মূল্যপতন ফিফার নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল নয়; বরং বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা-জোগানের প্রতিফলন। জনপ্রিয় দল ও তারকা ফুটবলারদের বিদায়ের কারণে দর্শকদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় পুনর্বিক্রির বাজারে টিকিটের সরবরাহ বেড়েছে, আর সেই কারণেই বিশ্বকাপের শেষ পর্বের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে।




