বিনোদন ডেস্ক | ভিনিউজ
দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন অ্যালবাম Confessions II নিয়ে ফিরেছেন পপসংগীতের কিংবদন্তি Madonna। ২০০৫ সালের বহুল প্রশংসিত Confessions on a Dance Floor-এর উত্তরসূরি হিসেবে প্রকাশিত এই অ্যালবাম ঘিরে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। সংগীত সমালোচকদের মতে, প্রথম অ্যালবামের জাদু পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে না পারলেও Confessions II ম্যাডোনার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম পরিণত ও আত্মজীবনীমূলক কাজ।
অ্যালবামের শুরুতেই ম্যাডোনা বলেন, কখনও কখনও তিনি ছায়ার আড়ালে লুকিয়ে নতুন পরিচয়ে নিজেকে খুঁজে পেতে চান। এই আত্মঅনুসন্ধানের মধ্য দিয়েই শুরু হয় ১২ ট্র্যাকের অ্যালবামটি। তবে দ্রুতই তিনি ফিরে যান সেই পরিচিত ড্যান্সফ্লোরে, যেখানে স্বাধীনতা, উচ্ছ্বাস ও মুক্তির অনুভূতি একাকার হয়ে যায়।
এবারও ম্যাডোনার সঙ্গী হয়েছেন ব্রিটিশ প্রযোজক Stuart Price, যিনি Confessions on a Dance Floor-এর অন্যতম নির্মাতা ছিলেন। দু’জনের লক্ষ্য ছিল আগের অ্যালবামের মান ধরে রাখা, এমনকি সেটিকে ছাড়িয়ে যাওয়া। যদিও সমালোচকদের মতে, সেই লক্ষ্য পুরোপুরি পূরণ হয়নি, তবু নতুন অ্যালবামটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শ্রোতাকে এক বিশেষ সংগীতযাত্রায় নিয়ে যায়।
অ্যালবামের প্রথমার্ধে I Feel So Free, Good For The Soul এবং Love Sensation গানগুলোতে রয়েছে শক্তিশালী হাউস বিট, ডিসকো ঘরানার আবহ এবং নাচের উন্মাদনা। তবে মাঝামাঝি অংশে School ও Love Without Words-এর মতো কিছু পরীক্ষামূলক গানে গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে যায়। একই ধরনের বার্তার পুনরাবৃত্তিও চোখে পড়ে।

তবে অ্যালবামের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর ব্যক্তিগত গল্পগুলোতে। বিশেষ করে Danceteria গানটি ম্যাডোনার সংগীতজীবনের সূচনালগ্নে ফিরে যায়। নিউইয়র্কের সেই কিংবদন্তি ক্লাবের স্মৃতি, যেখানে ডিজে Michael Kamins তাঁর ডেমো গান Everybody বাজিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর পেশাদার সংগীতজীবন। গানটিতে আশির দশকের নিউইয়র্কের শিল্পী, ডিজাইনার ও সংগীত সংস্কৃতির জীবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে।
অ্যালবামের অন্যতম আলোচিত গান Bring Your Love-এ ম্যাডোনার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন মার্কিন পপতারকা Sabrina Carpenter। নারীর স্বাধীনতা, আত্মপ্রকাশ এবং সামাজিক সমালোচনার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানই গানটির মূল বিষয়। দুই প্রজন্মের দুই শিল্পীর এই যুগলবন্দি ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাডোনা জানিয়েছেন, এবার তিনি চার্টের অবস্থান বা স্ট্রিমিংয়ের সংখ্যা মাথায় রেখে গান তৈরি করেননি। তাঁর মতে, অ্যালগরিদম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বর্তমান সংগীতজগৎ শিল্পীদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা কমিয়ে দিচ্ছে। তাই তিনি সচেতনভাবেই সমসাময়িক ট্রেন্ড অনুসরণ না করে ফিরে গেছেন আশির দশকের শিকাগো ও ডেট্রয়েট হাউস মিউজিকের শিকড়ে।
অ্যালবামের শেষভাগ আরও বেশি আবেগঘন। Fragile গানে তিনি স্মরণ করেছেন তাঁর প্রয়াত ভাই Christopher Ciccone-কে। শৈশব, দূরত্ব এবং পুনর্মিলনের স্মৃতিতে ভরা গানটি অ্যালবামের অন্যতম হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত।
অন্যদিকে The Test গানে ম্যাডোনার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন তাঁর বড় মেয়ে Lourdes Leon। মা-মেয়ের সম্পর্ক, প্রজন্মগত ব্যবধান এবং স্বাধীন পরিচয় গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা এই গানে সংবেদনশীলভাবে উঠে এসেছে।
সবশেষে L.E.S. গানে ম্যাডোনা ফিরে যান তাঁর তরুণ বয়সের নিউইয়র্কে, যেখানে প্রথম প্রেম, স্বপ্ন আর সংগ্রামের স্মৃতি মিলেমিশে এক নস্টালজিক আবহ তৈরি করেছে।
সমালোচকদের মতে, Confessions II হয়তো ২০০৫ সালের Confessions on a Dance Floor-এর মতো কালজয়ী হয়ে উঠবে না। কিন্তু এই অ্যালবাম প্রমাণ করে, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বসংগীতের শীর্ষে থাকা ম্যাডোনা এখনও নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে জানেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, নাচের উচ্ছ্বাস এবং আত্মবিশ্লেষণের মিশেলে Confessions II তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আন্তরিক ও পরিণত কাজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।




