জুলাই অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা ‘অন্যায়’, জামায়াত প্রসঙ্গে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে সংসদে উত্তেজনা

 

ভিনিউজ : ঢাকার জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই অভ্যুত্থান ও জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান–এর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের জেরে প্রায় ১০ মিনিট অচল হয়ে পড়ে সংসদের কার্যক্রম।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করা মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার শামিল। তিনি বলেন, “হিমালয়ের সঙ্গে পিলার তুলনা করা যেমন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনা করা ঠিক তেমন।” আরেকটি উপমায় তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনা করা হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়ার তুলনা করার মতো।”

তিনি বলেন, আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা নিহত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। তবে সেটিকে তিনি “গণঅভ্যুত্থান” হিসেবে দেখেন, “বিপ্লব” হিসেবে নয়। তাঁর ভাষায়, “চব্বিশের আগস্ট মাসে কোনো বিপ্লব হয়নি। আগস্ট হয়েছে গণঅভ্যুত্থান।” বক্তব্যে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজাকারবিরোধী অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যত দিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার বেঁচে থাকবে, তত দিন মুক্তিযোদ্ধা জিতবে, রাজাকার কোনোদিন জয়লাভ করতে পারবে না।”

এ সময় তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের কিছু সদস্য অতীতে মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার করেছিল। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ হইছে, মুক্তিযুদ্ধই সত্য। ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য।”

তবে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা তৈরি হয় জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে। ফজলুর রহমান বলেন, “কোনো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কিংবা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। করলে এটা ডাবল অপরাধ।”
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের নেতা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য দাবি করলেও জামায়াতে ইসলামী করেন, যা তাঁর মতে “ডাবল অপরাধ”। এ বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ ও হইচই শুরু করেন। সরকারি দলের সদস্যরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালে সংসদ কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে তিনি দাঁড়িয়ে বলেন, “সারা জাতি দেখছে। লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। সংসদ যদি বিধি মোতাবেক না চলে, তাহলে এই সংসদ আর থাকবে না।”
স্পিকার আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের এমন আচরণে শিশুরাও লজ্জা পাবে। তিনি মন্তব্য করেন, “যাঁরা অলরেডি দাদা হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের নাতিরা হয়তো গ্যালারিতে বসে দেখছে। তারা কী ভাববে?”
বক্তব্যের একপর্যায়ে ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে “ফজা পাগলা” বলে কটাক্ষ করে। তখন স্পিকার জানতে চান, সংসদের ভেতরে কেউ এমন মন্তব্য করেছে কি না।ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমির সামনে গান, নাটক বা লালনসংগীতের অনুষ্ঠানও হতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, “কালো শক্তি সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, একসময় তাঁর বাড়ির সামনে হামলাকারী জনতা জড়ো হয়েছিল তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে। সে সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত উপস্থিত হয়ে তাঁকে রক্ষা করেছিল বলে তিনি দাবি করেন।

পূর্বের খবর‘গ্যারান্টি’ না পেলে উপসাগরীয় অঞ্চল স্থিতিশীল হবে না: ইরান
পরবর্তি খবরআইএমএফ পূর্বাভাস: মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জন্য কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?