ভিনিউজ : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর আসছে, পাশাপাশি পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি। এই ঘটনা ঘটেছে এমন সময়ে, যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন—ইরান প্রথমে আক্রমণের শিকার না হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা করবে না।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও দাবি করেছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এদিকে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত সাইয়েদ আলী মৌসাভি ব্রিটেনকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হলে তার পরিণতি হবে গুরুতর। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান যদি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ভূপাতিত করে, তাহলে সেগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত ব্রিটেন সরাসরি এই সংঘাতে জড়িত নয়—যা ইতিবাচক।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের অন্তত ১৬টি বিমান ধ্বংস করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, এসব বিমান হেজবুল্লাহকে অস্ত্র সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত তিন দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীর ৪২টি জাহাজ ধ্বংস করেছে এবং দেশটির বিমান বাহিনী ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্যও। ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসকে পাঁচ দিনের নোটিশে যাত্রার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষার জন্য এটিকে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হতে পারে।
জর্ডান জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ১১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই জর্ডানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও। ইরাকের তেলক্ষেত্র থেকে বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কিছু তেল উৎপাদন কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, হরমুজ প্রণালির কিশ দ্বীপে একটি পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে আশপাশের বহু গ্রামের পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তিনি এটিকে বিপজ্জনক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সতর্ক করে বলেছে, শত্রু দেশের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন রাষ্ট্রগুলোর তেলবাহী জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলে বাধার মুখে পড়তে পারে।
ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




