গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ চাহিদার রেকর্ড ঊর্ধ্বগতি, বাড়ছে লোডশেডিং

 

বিশেষ প্রতিবেদক

ভিনিউজ : গ্রীষ্মের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং তা সরবরাহ সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫,০০০–১৫,৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালেও উৎপাদন ঘাটতির কারণে প্রায় ১,০০০ থেকে ২,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ–এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১টায় চাহিদা ছিল ১২,৯০০ মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন হয় ১২,৪৬২ মেগাওয়াট—ঘাটতি ছিল ৪১৮ মেগাওয়াট। একই দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঘণ্টাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ১,০০০ থেকে সর্বোচ্চ ১,৯৩৫ মেগাওয়াটে ওঠানামা করে।

চলতি মৌসুমে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। তবে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সংকট থাকায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে এবং গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় প্রতিদিন ৫–৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে।
বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহরুল ইসলাম জানান, কয়লাভিত্তিক কয়েকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে থাকায় সাম্প্রতিক সংকট তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আদানি ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। বর্তমানে সেগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে-আদানি থেকে প্রায় ১,৪৮০ মেগাওয়াট এবং রামপাল থেকে প্রায় ১,১০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা।

তবে এখনও এসএস পাওয়ার প্লান্ট (চট্টগ্রাম) এবং মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (কক্সবাজার) কয়লা সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যদিও মাতারবাড়ীতে নতুন কয়লাবাহী জাহাজ পৌঁছেছে এবং দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকটে রয়েছে। এসব কেন্দ্রের কাছে সরকারের প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত জ্বালানি আমদানি করতে পারছেন না। বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) জানিয়েছে, বিদ্যমান মজুদ দিয়ে সীমিত আকারে উৎপাদন চালিয়ে মে মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে, বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম-এই তিনটি কারণ বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সংকটকে তীব্র করে তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, উৎপাদনে ফিরে আসা ইউনিটগুলো পুরোপুরি সচল হলে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হবে।

পূর্বের খবরআজ মধ্যরাতে হজ ফ্লাইট শুরু, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী