জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন

 

ভিনিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পাওয়া অভিজ্ঞ কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আনুষঙ্গিক কাজ চলমান রয়েছে বলে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র কালবেলাকে নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন, যা অক্টোবরে সিনেটের শুনানির পর অনুমোদিত হয়। সিনেটের অনুমোদনের তথ্য জানিয়ে শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম লিংকডইনে এক পোস্টে ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পেয়ে আমি সম্মানিত এবং এর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতের আগমনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের মতে, যেহেতু দেশে একটি জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ফলে এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে সহযোগিতা প্রয়োজন। নতুন রাষ্ট্রদূত দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে পারবেন।

এর আগে ঢাকায় সবশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস, যিনি ১৭তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০২২ সালের মার্চ থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দুই বছর চার মাস দায়িত্ব পালন শেষে গত বছরের ২২ জুলাই মধ্যরাতে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান বহুল আলোচিত পিটার হাস। তার বিদায়ের পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র্যাংকের সদস্য। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, তিনি পূর্বে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকবিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের (ইউএসএসট্র্যাটকম) কমান্ডারের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। তার অন্যান্য দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ এবং হো চি মিন সিটিতে মার্কিন দূতাবাসে বিভিন্ন পদে কাজ করা। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সিনেটের শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট, আগামী নির্বাচন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে পাশে থাকবে, বাণিজ্য বাধা কমিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করবে।

পূর্বের খবরতারেক রহমানের সঙ্গে একই ফ্লাইটে ফিরছেন ডা. জুবাইদা ও জাইমা
পরবর্তি খবর‘গোবিন্দ প্রেম করছেন না’! -সুনীতা আহুজা