সরকারি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন ৩৬ হাজার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজারের বেশি শূন্য পদে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে তাঁদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুত, চাকরির নথি যাচাই এবং পদোন্নতির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব নথি প্রস্তুত করে, সেগুলো সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পিএসসি থেকে অনুমোদন পেলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৬২০টি। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাবেন।

জানতে চাইলে গতকাল মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী পদোন্নতির প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

পদোন্নতি কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে গতকাল একটি অফিস আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আইরিন পারভীন স্বাক্ষরিত এই অফিস আদেশে বলা হয়েছে, পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট অভিযোগগুলো আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ পদোন্নতির তালিকাসহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিভাগীয় উপপরিচালকের মাধ্যমে পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চলতি মাসের মধ্যে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় নথিপত্র পিএসসিতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন শেষে পিএসসি থেকে ফেরত এলে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় পদোন্নতি-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের মূল বিষয় ছিল জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ। ২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রণীত এক বিধিমালায় বলা হয়েছিল, সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অবস্থান হবে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে। হাইকোর্ট ওই ধারাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে যায়। পরে ওই মামলা স্থগিত হলে ২০২৩ সালে কয়েকটি জেলার সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া শুরু হয়। আদালতের নির্দেশে সেই কার্যক্রম আবার আটকে যায়।

চলতি বছরের ২ জুন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি-সংক্রান্ত ১৩ বছরের আইনি জটিলতার অবসান ঘটান। গত ২৫ অক্টোবর ওই মামলার ২৯ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ ও নির্দেশনার অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

এদিকে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকেরা পদোন্নতিবঞ্চিত। এতে তাঁরা মানসিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত। সরকারের কাছে তাঁদের একটাই দাবি, আর যেন কোনো নতুন আমলাতান্ত্রিক অজুহাতে সময় নষ্ট করা না হয়। দ্রুত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি দেওয়া হোক।

পূর্বের খবরগাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ইটপাটকেলের জবাবে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড
পরবর্তি খবরবড় সংকটে ক্যানভা, হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!