সংসদে ভেতরে ভয়ে পেয়েছিলাম, দিল্লির বিক্ষোভের পর পুলিশকে ধন্যবাদ কঙ্গনার

 

ভিনিউজ ডেস্ক : ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বিজেপি সাংসদ ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত দাবি করেছেন, বিক্ষোভের সময় সংসদ ভবনের ভেতরে থাকা সাংসদরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় দিল্লি পুলিশের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সমর্থক অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে অগ্রসর হলে তাদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। পরে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে বহু বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন অনেক বলিউড তারকা ও বিভিন্ন মহলের মানুষ। তবে সেই সময়েই সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নেন বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রনৌত।

সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কঙ্গনা বলেন, “আমরা তখন সবাই সংসদকক্ষের ভেতরে ছিলাম। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল যে, আমরা আশঙ্কা করছিলাম উন্মত্ত জনতা সংসদে ঢুকে আমাদের ওপর হামলা চালাতে পারে। সত্যি বলতে, আমি ভয়ে গুটিয়ে গিয়েছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, দিল্লি পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এ জন্য তিনি পুলিশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষায়, “দিল্লি পুলিশ আমাদের জন্য ঢালের মতো কাজ করেছে। তাদের পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতার কারণেই বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”

কঙ্গনা শুধু পুলিশের ভূমিকার প্রশংসাই করেননি, বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ও কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, রাস্তায় নেমে সরকারকে চাপের মুখে ফেলে দাবি আদায়ের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের চাপ সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়। গণতন্ত্রে মত প্রকাশের অধিকার আছে, কিন্তু তা আইন ও শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই হওয়া উচিত।”

এ সময় তিনি রাজনৈতিক মন্তব্যও করেন। কঙ্গনার দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আবার বিজেপি এবং সনাতন সংস্কৃতির দিকেই ফিরে আসবে। তাঁর ভাষায়, “এটাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। বাকি অনেক কিছুই বাইরে থেকে ধার করা।”

অন্যদিকে, বিরোধী নেতাদের একাংশ এবং কয়েকজন সাংসদ অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তার কারণে সংসদের বিভিন্ন প্রবেশদ্বার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সংসদ ভবনের ভেতরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। সেখানে নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যস্ততা এবং অতিরিক্ত সতর্কতা লক্ষ্য করা যায়।

দিল্লির এই বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ এবং কঙ্গনা রনৌতের বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করছেন শাসকদলের নেতারা। ফলে ঘটনার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব আগামী দিনেও আলোচনায় থাকবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

পূর্বের খবরস্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাদেরকে প্রার্থী হতে সুযোগ না দেয়ার পক্ষে ইসি
পরবর্তি খবরবিশ্বকাপ ফাইনালের পর কাণ্ড: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু ফিফার, শাস্তির মুখে খেলোয়াড় ও ফুটবল ফেডারেশন
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!