বিশ্ব পর্যটন দিবস: আজ পর্যটক বাড়লেও বাড়ছে না সুবিধা

ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ ভ্রমণ করেছেন কামরুল হাসান। এসব দেশের হোটেলে যে ভাড়া লাগে, কক্সবাজারে সেই খরচ বেশি। এমনকি খাবারের দামও দেশের প্রধান পর্যটন নগরীতে তুলনামূলক বেশি। গতকাল শনিবার বিকেলে তাঁকে পাওয়া যায় কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে। এসব নিয়ন্ত্রণে তদারকি নেই বলে অভিযোগ তোলেন কামরুল হাসান।

এই সৈকতে প্রতিবছর পর্যটক বেড়ে চললেও সুযোগ-সুবিধা তেমন বাড়েনি। খাবারের দাম, পরিবহনের ভাড়া– সবকিছু লাগামহীন, রয়েছে নিরাপত্তাঝুঁকিও। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী আহমেদ রফিকের ভাষ্য, ‘সমুদ্র আর সূর্যাস্ত দেখা ছাড়া সময় কাটানোর কিছু নেই কক্সবাজারে। প্রতি বছরই আসা হয়; কিন্তু পর্যটন বা বিনোদনের কোনো উন্নতি দেখছি না। উল্টো যেটুকু সৌন্দর্য ছিল, তা নষ্ট হচ্ছে।’

কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির তথ্যমতে, ২০২৩ সালে প্রায় ৬০ লাখ পর্যটক এই সৈকত ভ্রমণে এসেছেন। ২০২৪ সালে আসেন ৭০ লাখ। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বছরে ১০ লাখ করে পর্যটক বাড়লেও তাদের জন্য বিনোদনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না, সুযোগ-সুবিধাও বাড়ছে না। আগে সৈকতে নানা উৎসব হতো। নিরাপত্তার অজুহাতে এক দশক ধরে সবকিছু বন্ধ।

চলছে মাস্টারপ্ল্যান
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) ভাষ্য, স্মার্ট নগরীতে রূপান্তরে ২০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। যদিও ২০১৩ সালে মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়। সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে তা কার্যকর হয়নি। কউক সম্প্রতি নতুন মাস্টারপ্ল্যান (প্রথম সংশোধিত) তৈরির কাজ শুরু করেছে। এটির তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট-সিএসসি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যানটি প্রণয়নের কাজ শেষের আশা প্রকাশ করেন কউকের উপনগর পরিকল্পনাবিদ মো. তানভীর হাসান রেজাউল জানান, এবারের মাস্টারপ্ল্যান গুণগত মানে আগেরটার চেয়ে উন্নত হবে। কারণ, এবার সৈকতসহ বিভিন্ন এলাকা জোনিং করে মাটি পরীক্ষা হয়ে গেছে।

সিলেটে প্রকৃতি রক্ষার আকুতি
বালু-পাথর উত্তোলন, গাছপালা কেটে নেওয়া ও চোরাচালানিদের দৌরাত্ম্যসহ নানা কারণে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত দর্শনীয় জায়গাগুলোর সৌন্দর্য দিন দিন হারাচ্ছে।

গতকাল শনিবার সাদাপাথর কেন্দ্রে বেড়াতে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসনাইন। তিনি বলেন, তীব্র রোদে ছায়ায় দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। কিছু ছাতা রাখা হয়েছে। সেখানে বসতে হলেও ১০০ টাকা দিতে হয়।

নতুন পর্যটনকেন্দ্রের অনুসন্ধান বা ব্র্যান্ডিং না করতে পারলে সিলেট অঞ্চলে পর্যটকদের আকর্ষণ কমবে বলে মনে করেন ট্যুর অপারেট অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের সভাপতি ও সিলেট চেম্বারের পর্যটন সাবকমিটির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির লিটন। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের ৩৩টি পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে সাদাপাথর ও লালাখাল পর্যটনকেন্দ্র গ্যাজেটভুক্ত। বাকিগুলো গ্যাজেটের বাইরে। এ অবস্থায় সেগুলো কারা দেখভাল করবেন? সব পর্যটনকেন্দ্র তদারকির দাবি জানান।

পূর্বের খবরইরানবিরোধী মার্কিন চাপে ৪ দেশের সহযোগিতা, কৃতজ্ঞতা জানাল যুক্তরাষ্ট্র
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!