তানজিনা হাসা মৌ
বিশেষ প্রতিবেদন
ভিনিউজ: নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন-হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে সাধারণত এসবকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এসব মেনে চলার পরও একটি সাধারণ অভ্যাসের কারণে নিঃশব্দে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে হৃদ্যন্ত্র। চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম শুধু শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়ার সময় নয়, এ সময় হৃদ্যন্ত্রও দিনের তুলনায় কিছুটা কম কাজ করে। সাধারণত ঘুমের মধ্যে রক্তচাপ প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে রক্তনালিগুলো কিছুটা শিথিল হয় এবং হৃদ্যন্ত্র প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পাওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া কিংবা নিয়মিত শরীরচর্চা করলেও ঘুমের ঘাটতি হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ঘুম অসম্পূর্ণ হয় বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়, তাঁদের ক্ষেত্রে হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কমার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

ঘুমের অভাবে বাড়তে পারে রক্তচাপ
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রাতে শরীর যে বিশ্রামের অবস্থায় যাওয়ার কথা, তা পুরোপুরি সম্ভব হয় না। ফলে হৃদ্স্পন্দন প্রয়োজনীয় মাত্রায় কমতে নাও পারে এবং রক্তচাপও প্রত্যাশিত মাত্রায় নামতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক-দুই রাত ঘুম কম হওয়াকে সাধারণত বড় সমস্যা হিসেবে দেখা না হলেও নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রাতে কম ঘুমান, তাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপও বাড়ায় ঝুঁকি
ঘুমের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রিনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এসব হরমোন দীর্ঘ সময় বেশি মাত্রায় থাকলে হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং রক্তচাপও প্রভাবিত হতে পারে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টা-এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে চলতে থাকলে হৃদ্যন্ত্রের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
রক্তনালিতে প্রদাহের আশঙ্কা
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে প্রদাহজনিত পরিবর্তন তৈরি হতে পারে। এই প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ধমনির ভেতরে চর্বি ও অন্যান্য পদার্থ জমে প্লাক তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ধমনিতে প্লাক জমে রক্তনালি সরু হয়ে গেলে হৃদ্যন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে হৃদ্রোগ, এমনকি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
তাই হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ বা নিয়মিত ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমকেও গুরুত্ব দিতে হবে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, উচ্চ রক্তচাপ বা বুকে অস্বস্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।




