এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সেই ভারতেই হার নিগারদের

পাহাড়ের কোল ঘেসে তৈরি করোগি অ্যাথলেটিক পার্ক। স্টেডিয়ামের চার পাশে সবুজায়ন। দেখলেই শুধুই মুগ্ধতা ছড়ায়। মাঠের ভেতরে বিচ্ছিন্ন আকারে নয়টি গ্যালারি। বেসবলের জন্য বিখ্যাত হলেও এখন ক্রিকেটের রুপে এই মাঠ। চিরসবুজের এই গ্রাউন্ডে রংহীন বাংলাদেশের মেয়েরা। এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে কোনো বিভাগেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। ১১৪ রানের বিশাল পরাজয়ে গেমসে স্বর্ন জয়ের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের। আগামীকাল ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে সারোয়ার ইমরানের দল। সর্বশেষ এশিয়ান গেমসেও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।

মেয়েদের ক্রিকেটে ভারত যেন বাংলাদেশের জুজু। এ মাসে দুবাইতে হওয়া নারী এশিয়া কাপেও ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হেরেছিল। এবার মঞ্চটা এশিয়ান গেমসের, সেখানেও শেষ চার থেকে বিদায় লাল সবুজের দলটির। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করা ভারত ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় শেফালি ভার্মার সেঞ্চুরিতে ভর করে। এই শেফালি ভার্মা এশিয়ান কাপেও বাংলাদেশকে ভুগিয়েছিলেন। সেমিফাইনালের সেই ম্যাচে অবশ্য তাকে তিনবার জীবন দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। এদিন অবশ্য নিখুত ব্যাটিং করেন তিনি। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেন তিনি। বাংলাদেশের পেসার আর স্পিনাররা কোনোভাবেই আউট করতে পারেননি তাকে। ৪৯ বলে ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকা শেফালির ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩টি চার এবং ৯টি ছয়ের সৌজন্যে। স্টেডিয়ামে যে কয়েক’শ দর্শক এসেছেন, তার বেশিরভাগই ভারতের জন্য গলা ফাটিয়েছেন। ভার্মা শতক করার পর গ্যালারিতে গর্জন ওঠে। বাংলাদেশের পক্ষে মারুফা, মেঘলা, রাবেয়া এবং নাহিদা একটি করে উইকেট নেন।

করোগি স্পোর্টস পার্কের এই পিচ ব্যাটিং বান্ধব। আগের সেমিফাইনালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৭৭ রান করেও হেরেছিল পাকিস্তান। তাই ভারত প্রায় ২’শ রান করলেও বাংলাদেশের ব্যাটিংটা ভালো হলে জমতো লড়াই। ভারত যেভাবে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল, বাংলাদেশের দুই ওপেনার দিলারা আক্তার এবং জুরাইরা ফেরদৌস তা করতে পারেননি। রানের খোতা খোলার আগেই নন্দিনি শর্মার বলে আউট হন জুরাইরা। ৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সুবহানা মুস্তারিও থিতু হতে পারেননি। সাজঘরে ফিরেন মাত্র ৪ রান করে।

৯ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ শুরুতেই পড়ে যায় চাপে। কয়েকটি বাউন্ডাারি এবং ওভার বাউন্ডারি মেরে সেই চাপ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন দিলার এবং নিগার সুলতানা জ্যোতি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে চারানিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে গদের হাতে বন্দি হন নিগার। ৯ বলে ৯ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়কের ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাটা অব্যাহত আছে।

প্রথম পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ৩৯ রান। অথচ ভারত পাওয়ার প্লেতে করে ৭২ রান। এখানেই ম্যাচের বড় ব্যবধান হয়ে দাঁড়ায়। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে দ্বীপ্তি শর্মার বলে আউট হয়ে যান বাংলাদেশের ইনিংসে ভরসা হয়ে ওঠা দিলারা। ৪টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে ২৩ বলে ২৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ১০ ওভারে বাংলাদেশ করে ৫৩ রান, ঠিক এই অবস্থায় ভারতের রান ছিল ৯৭।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্রটা এবার আইচি নাগোয়াতে ফুটে ওঠেছে। দিলারা, শারমীন আক্তার এবং সুলতানা খাতুন ছাড়া কোনো ব্যাটারই দুই অংকের স্কোর করতে পারেননি। ভারতের স্পিন–পেসে আটকা বাংলাদেশের মেয়েরা গুড়িয়ে যায় ৮১ রানে।

পূর্বের খবরদীপিকা-রণবীরের ঘরে এলো দ্বিতীয় সন্তান
পরবর্তি খবরঅপ্রতিম হত্যায় গ্রেফতার ৪, অপরাধ স্বীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!