রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনায় ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল মার্কিন কংগ্রেসে

রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনায় ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার একটি বিল এগিয়ে নিতে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। একই সঙ্গে ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর বিষয়টিও বিলে রাখা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’—নামের বিলটি স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রক্রিয়াগত বাধা পার হয়েছে। এ সময় দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দেন। আজ বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির চূড়ান্ত ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের এই বিলটি এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবসহ আরও কয়েকটি আইনপ্রস্তাব ২১৪-২১১ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। এই ফল প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বকে বিস্মিত করেছে। সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ সদস্য কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স বিলটির বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেবে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস করে। এই আইনে শুধু রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা নয়, তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে মস্কোকে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করা জাহাজগুলোর ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল বাণিজ্য ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করছে।

বিলে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও ট্রাম্পকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীন ও ভারত রয়েছে। তবে ৭ আগস্ট সিনেটে পাস হওয়া বিলের সংস্করণে রাশিয়ার বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে তেল ও গ্যাসের পরিমাণের হিসাবে সবচেয়ে বেশি আমদানিকারক পাঁচটি দেশের কথা বলা হয়েছে।

এদিকে, এই ভোট এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইউক্রেনপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ওয়াশিংটনে তাদের তৎপরতা ও লবিং বাড়িয়েছে। আমেরিকান কোয়ালিশন ফর ইউক্রেন আয়োজিত ‘ইউক্রেন অ্যাকশন সামিট’ চলছে। এতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের অব্যাহত সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানোর আগে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হতে হবে। বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিনিধি পরিষদের আগাম অবকাশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ৯ নভেম্বর প্রতিনিধি পরিষদ আবার অধিবেশনে বসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পূর্বের খবরডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না: বিপিসি চেয়ারম্যান
পরবর্তি খবরআর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার খেলবেন মেসি
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!