ভিনিউজ ডেস্ক : রাশিয়া থেকে তেল আমদানি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি এবং জ্বালানি নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো। মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারত্বের অগ্রগতি, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ভারতের বহুমুখী জ্বালানি আমদানি নীতির প্রশংসা করেন রুবিয়ো। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
পাঁচ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো। মঙ্গলবার দুপুরে মুম্বইয়ে পৌঁছানোর পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সঙ্গে গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া পরিদর্শন করেন তিনি। পরে ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর ঐতিহাসিক তাজমহল প্যালেস হোটেলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রুবিয়ো। তিনি বলেন, চুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সরাসরি বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা করে না, তবে এ প্রক্রিয়ায় তারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রুবিয়োর ভাষায়, চুক্তি সম্পাদনের আগে যতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব, দুই দেশ এখন ঠিক সেই অবস্থানে রয়েছে। চুক্তি চূড়ান্ত করতে অল্প কয়েকটি বিষয় বাকি আছে। সেগুলোর সমাধান হলে শিগগিরই সুখবর আসতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তির সব বিষয়ে এখনো ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেও তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য আরও আলোচনা প্রয়োজন।
বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা করেন জয়শঙ্কর।
ভারতের জ্বালানি চাহিদা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির নীতির পক্ষে নয়াদিল্লি বরাবরই অবস্থান নিয়েছে। রুবিয়োর বক্তব্যে সেই বহুমুখী নীতির প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দুই দেশের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। রুবিয়োর এই সফর এবং জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক সেই সম্পর্কের জটিলতা নিরসন ও নতুন সমঝোতার পথ তৈরিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
-আনন্দবাজার




