ভিনিউজ : পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এ তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইমরানের পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানানো হচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ আদালত বলেছেন, যে কোনো অভিযুক্তের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার।
আদালত ইমরান খানের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল এবং ডা. উজমা খানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য এবং তার সঙ্গে সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিষয়ে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এবং ইমরান খানের বোন উজমা খান যে আবেদন করেছিলেন, তার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
সুপ্রিম কোর্ট তার আদেশে আরও বলেছেন, ইমরান খানের চিকিৎসায় যে সব ব্যয় হবে, তা তার পরিবার বহন করবে।
আদালত তার আদেশে বলেছেন, ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করার সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটানো যাবে না।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং কয়েকটিতে তাকে সাজাও দেওয়া হয়েছে। তবে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি।
ইমরানের ছেলেরা গত বছর বারবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার আইনজীবীরাও জানিয়েছিলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি খুবই স্বস্তিদায়ক আদেশ। তবে আমরা চাইতাম, এটি আরও আগেই দেওয়া হতো, তাহলে তার চোখ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না।
ইমরানের চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে রাখার দাবি জানিয়েছেন বুখারি। তিনি বলেন, সব চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে রাখা উচিত।
ইমরানের মুখপাত্র নাঈম হায়দার পানজুথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, আদালত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে সেখানে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতা হারানোর পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহারসংক্রান্ত মামলা এবং অবৈধ বিয়েসহ একাধিক মামলা হয়। এসব মামলায় দেওয়া কয়েকটি সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। তবে কয়েকটি মামলার আপিল এখনো বিচারাধীন। ইমরান সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেট তারকারাও ইমরান খানের কারাগারে থাকা ও তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তারা তার প্রতি আরও ভালো আচরণের দাবি জানান।
২০১৮ সালের নির্বাচনে ইমরানের দল পিটিআই ক্ষমতায় আসে। বর্তমানে দলটির দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলোতে বড় ধরনের জনসমর্থন রয়েছে। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে দলটির নির্বাচনী প্রতীক বাতিল করা হয়। ফলে পিটিআইয়ের প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে।




