মেসির জাদুতে ইংল্যান্ডকে বিদায়, রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ভিনিউজ : প্রথমার্ধে ছিল এলোমেলো ফুটবল, অসংখ্য ফাউল আর বারবার খেলা থেমে যাওয়ার বিরক্তিকর দৃশ্য। তবে বিরতির পর যেন পাল্টে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র। আক্রমণ-প্রতি-আক্রমণে জমে ওঠা রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকেই দুই দলের খেলায় ছিল অতিরিক্ত আগ্রাসন। মাঝমাঠের দখল নিতে গিয়ে একের পর এক কঠিন ট্যাকল ও ফাউলের কারণে রেফারিকে বারবার খেলা থামাতে হয়। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিটে ছন্দ হারায় ম্যাচ, আর গোলের সুযোগও ছিল হাতে গোনা।
বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। ৫৪তম মিনিটে ইংল্যান্ডের দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। হঠাৎ পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে চাপে ফেলে আলবিসেলেস্তেরা।
অবশেষে সেই চাপের ফল আসে। ৭০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে এন্সো ফের্নান্দেস সমতা ফেরান। গোলটি ম্যাচে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনে এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে গ্যালারি।
সমতায় ফেরার পরও আক্রমণের ধার কমায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের শেষ সাত মিনিটে আসে নির্ধারণী মুহূর্ত। ডান দিক দিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে গিয়ে নিখুঁত ক্রস দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সেই বল দারুণ দক্ষতায় জালে জড়িয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেস। গোল হতেই আনন্দে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির, আর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা হতাশায় নিস্তব্ধ হয়ে পড়েন।
শেষ বাঁশি বাজার পর শুরু হয় আর্জেন্টিনার উদ্যাপন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর এবারও ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখাল স্কালোনির দল। পুরো ম্যাচে মেসি গোল না পেলেও আক্রমণ গড়ে তোলা, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং জয়সূচক গোলের অ্যাসিস্ট করে আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন।
অন্যদিকে, দারুণ সূচনা করেও শেষ পর্যন্ত সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ইংল্যান্ডকে। প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেল তাদের।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ফাইনালে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা, যেখানে ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি থাকবে লিওনেল মেসি ও তার দলের দিকে।




