স্পোর্টস ডেস্ক
ভিনিউজ : ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। বিদায়ের শঙ্কা তখন ঘিরে ধরেছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত অনিশ্চয়তার খেলা, সেটিই আবারও প্রমাণ করলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাঁর অনুপ্রেরণায় শেষ ১১ মিনিট ও যোগ করা সময়ে তিন গোল করে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে মিশর। ১৫তম মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসের ইব্রাহিম।
চার মিনিট পর সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি পেলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। তাঁর নিচু শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবর। এরপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও ম্যাক অ্যালিস্টার ও হুলিয়ান আলভারেসদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬৭তম মিনিটে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে মোস্তাফা জিকো গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ অভিযান বুঝি শেষ হতে চলেছে।
কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার রূপকথার প্রত্যাবর্তন। ৭৯তম মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। মাত্র চার মিনিট পর বক্সের ভেতরে সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেই সমতা ফেরান মেসি। মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
সমতায় ফেরার পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে এন্সো ফার্নান্দেস জয়সূচক গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় অবিশ্বাস্য এক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
পুরো ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ ও সুযোগ সৃষ্টিতে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। ৬০ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে তারা ১৯টি শট নেয়, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে মিশর পাঁচটি শটের মধ্যে দুটি লক্ষ্যে রেখে দুই গোল আদায় করে নেয়।
শুরুর দিকে পেনাল্টি মিস করলেও শেষ পর্যন্ত এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন মেসি। কঠিন মুহূর্তে অধিনায়কের নেতৃত্ব এবং শেষ সময়ের দুর্দান্ত লড়াই আর্জেন্টিনাকে শুধু পরাজয়ের হাত থেকেই রক্ষা করেনি, বিশ্বকাপের শেষ আটের টিকিটও নিশ্চিত করেছে। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে একই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে শিরোপা রক্ষার মিশন এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য থাকবে আলবিসেলেস্তেদের।




