বুদ্ধপূর্ণিমা আজ : অহিংসা, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বার্তায় দেশজুড়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উৎসব

 

তানজিনা হাসান মৌ

বিশেষ প্রতিবেদন

ভিনিউজ : আজ পবিত্র বুদ্ধপূর্ণিমা। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবটি আজ শুক্রবার সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, প্রার্থনা, পূজা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। বৈশাখী পূর্ণিমার এই দিনটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বৌদ্ধধর্মমতে এই দিনেই মহামতি গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন, বোধিজ্ঞান লাভ করেন এবং মহাপরিনির্বাণে উপনীত হন। তাই দিনটি বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে ‘বুদ্ধপূর্ণিমা’ নামে পরিচিত।

দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী চলছে বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান, প্রদীপ প্রজ্বলন, ধর্মীয় আলোচনা, শান্তি শোভাযাত্রা ও সমবেত প্রার্থনা। মানবজাতির শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে রাজধানী থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, কুমিল্লা, সিলেট, বরগুনা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

বুদ্ধের জীবনদর্শনের মূল ভিত্তি ছিল অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও করুণা। তিনি বিশ্বাস করতেন-হিংসা কখনো হিংসাকে থামাতে পারে না; কেবল অহিংসা ও অবৈরিতাই পারে মানবমনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। তাঁর বাণী ছিল, মানুষ জন্মগতভাবে উচ্চ বা নীচ নয়; কর্মই মানুষকে মর্যাদা দেয়। বর্তমান সংঘাতময় বিশ্বে তাঁর এই শিক্ষা আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গৌতম বুদ্ধের অহিংসা, সাম্য ও করুণার শিক্ষা শান্তি ও সম্প্রীতিনির্ভর সমাজ গঠনে আজও অনন্য পথনির্দেশনা। তিনি দেশ-বিদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত ও বিভেদের পরিবর্তে বুদ্ধের দর্শন মানবতার মুক্তির পথ দেখাতে পারে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যেখানে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণ ও মানবতার পথে আহ্বান করে। তিনি বৌদ্ধধর্মের পঞ্চশীল নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন—প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক পরিহার—এই নীতিগুলো মানবসমাজে নৈতিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাজধানীর ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহার-এ বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে। সেখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বুদ্ধপূর্ণিমার তাৎপর্যবিষয়ক আলোচনা সভা, প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান। একইভাবে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহার-এ বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
অহিংসা, মৈত্রী, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের চিরন্তন বার্তা নিয়ে এবারও বুদ্ধপূর্ণিমা দেশবাসীর কাছে শান্তি ও সম্প্রীতির এক অনন্য আহ্বান হয়ে উঠেছে।

পূর্বের খবরসঞ্জয় কাপুরের ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব: ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা কারিনার
পরবর্তি খবরমহান মে দিবস আজ
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!