বিবিসি প্রতিবেদন : বিদেশি কর্মী নিয়োগে মাইক্রোসফটসহ আট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা

ভিনিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মাইক্রোসফটসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন ও বিচারাধীন স্থায়ী শ্রম সনদসংক্রান্ত আবেদন অনুমোদন না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। বিদেশি কর্মীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেন, মাইক্রোসফটসহ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করছে। তার দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের কর্মসংস্থান ও মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মাইক্রোসফট ছাড়াও অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল এবং ক্যাপজেমিনির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তোলেন ভ্যান্স। সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের নতুন কিংবা বিচারাধীন স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি বা পার্ম (PERM) আবেদন অনুমোদন করা হবে না।

ভ্যান্সের অভিযোগ, মাইক্রোসফট একই সময়ে প্রায় ছয় হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং ছয় হাজার আট শ বিদেশি কর্মীর এইচ-১বি ভিসার আবেদন করেছে। তার মতে, এ ঘটনা স্থানীয় কর্মীদের সরিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রবণতা তুলে ধরে।

তবে মাইক্রোসফট এ অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, গত অর্থবছরে জমা দেওয়া এইচ-১বি ভিসার আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই আগে থেকে মাইক্রোসফটে কর্মরত কর্মীদের জন্য, নতুন নিয়োগের উদ্দেশ্যে নয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ কর্মীই মার্কিন নাগরিক এবং বিদেশি কর্মীদেরও একই পর্যায়ের মার্কিন কর্মীদের সমমানের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান এলিসের তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফটে একজন এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীর গড় বেতন বছরে প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, প্রশাসনের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তারা অতিরিক্ত তথ্য দিতে প্রস্তুত।

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এ ভিসার ব্যবহার রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবছর সাধারণ এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা ৬৫ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার নির্ধারিত। ফলে নিয়মিত বার্ষিক সীমা মোট ৮৫ হাজার।

অন্যদিকে, পার্ম কর্মসূচি বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে যোগ্য কর্মীরা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যবসায়িক খাতে এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি পার্ম আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।

বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য একটি পদক গ্রহণ করেন। একই অনুষ্ঠানে ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং, লিসা সু, সের্গেই ব্রিন ও মাইকেল ডেলকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভর করে আসছে। অ্যামাজন, গুগল, মেটা, অ্যাপল ও এনভিডিয়াও এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে। ফলে নতুন এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি খাতে বিদেশি কর্মীদের ভবিষ্যৎ, নিয়োগনীতি এবং মার্কিন শ্রমবাজারে অভিবাসন নীতির প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তবে ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর এর পূর্ণ প্রভাব নির্ভর করবে।

পূর্বের খবরনানা পাটেকরের মৃত্যুর পরেও কেন ক্ষোভ উগরে দিলেছিলেন তনুশ্রী দত্ত?
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!