পদ্মা ব্যারাজ: লক্ষ্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৃতপ্রায় পাঁচটি নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা

 

বিশেষ প্রতিবেদন

জয়ন্ত আচার্য

ভিনিউজ : বাংলাদেশ সরকার পদ্মা নদীর ওপর প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নামের এই প্রকল্পটি আগামী সাত বছরে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৃতপ্রায় পাঁচটি নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট কমানো। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

ব্যারাজ হলো নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত বিশেষ অবকাঠামো। এটি বাঁধের মতো পানি পুরোপুরি আটকে রাখে না; বরং বিভিন্ন গেট বা দরজার মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণত ব্যারাজের সাহায্যে নদীর পানি খাল বা অন্য নদীতে প্রবাহিত করে সেচ, নৌ চলাচল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ কমে গেছে। ফলে ওই অঞ্চলে খরা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতির মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে। সরকার আশা করছে, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে এসব সংকট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

প্রকল্পের আওতায় মূল ব্যারাজটি নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারাজে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং মাছ চলাচলের জন্য দুটি ফিশ পাস থাকবে। কর্মকর্তাদের মতে, এর মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে।

সংরক্ষিত পানি গড়াই-মধুমতী, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীতে সরবরাহ করা হবে। প্রথম ধাপে গড়াই-মধুমতী ও হিসনা নদীতে ব্যাপক পুনঃখনন ও ড্রেজিং কাজ পরিচালিত হবে। দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য নদী পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যারাজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৮০০ কিউসেক পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া যাবে। পাশাপাশি ধান ও মাছের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা কমবে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা পাবে এবং নদীপথে নৌ চলাচল সহজ হবে। একইসঙ্গে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছে সরকার।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৩ সালের মধ্যে ব্যারাজ নির্মাণ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে তিনটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সাতটি স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলা হবে। কর্মকর্তাদের দাবি, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার আর্থ-সামাজিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

পূর্বের খবরহাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১২ শিশুর, মৃত্যু ছাড়াল ৪৫০