ভিনিউজ ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এর মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রেজিনগরে বিজেপির জয় রাজ্যের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। একই সঙ্গে অসমের নগাঁওয়ে লোকসভা নির্বাচনের ফল এবং পুদুচেরিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) সাফল্যকে সামনে রেখে দলের জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর মতে, এই ফলাফল বিজেপি-এনডিএর সুশাসনের কর্মসূচির প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানান। নির্বাচনে দলের কর্মীদের পরিশ্রমেরও প্রশংসা করেন তিনি। মোদি বলেন, জনগণের অব্যাহত সমর্থন ও আশীর্বাদের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। জনকল্যাণ এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে নির্বাচনের এই রায় তাঁদের আরও শক্তি জোগাবে বলেও মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে রেজিনগর। প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম ভোটারের বসবাস বলে পরিচিত এই আসনে বিজেপির জয় রাজ্যের প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রায় ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর আসনে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীর প্রায় ৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। বাবরি মসজিদ-সংক্রান্ত রাজনৈতিক বিতর্ক ওই নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। কিন্তু উপনির্বাচনে বিজেপির বড় জয় প্রমাণ করেছে, এই আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। তবে শুধু নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে মুসলিম ভোটারদের সামগ্রিক অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, ভোটদানের হার এবং বিভিন্ন এলাকার ফল বিশ্লেষণ করলেই পরিবর্তনের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রামেও নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বিজেপি। দলটির প্রার্থী হাসি রানি রথ প্রায় ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে দেওয়া আসনটিতে এই ফল বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় প্রত্যাশিত বলে মনে করা হলেও রেজিনগরের ফল রাজনৈতিক মহলে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এই দুই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রাম এবং হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে দেওয়া রেজিনগরের ভোটের ফল রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, অসমের নগাঁওয়ে বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস শর্মা ৬ লাখ ৮৭ হাজার ১১০ ভোট পেয়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুদুচেরির থাট্টানচাভাদিতে এনডিএর শরিক অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেসের প্রার্থী অশোক আনন্দও জয় পেয়েছেন।
এই সাফল্যকে সামনে রেখে মোদি জনকল্যাণ, সুশাসন এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই জয় দীর্ঘমেয়াদে কতটা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের ওপর। বিশেষ করে রেজিনগরের ফল রাজ্যের প্রচলিত ভোটের সমীকরণে স্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা কি না, তা সময়ই বলে দেবে।




