জার্মানির দুই রাজ্যে রোববারের ভোটে বড় পরীক্ষার মুখে ক্ষমতাসীনরা

ভিনিউজ ডেস্ক : জার্মানির দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বার্লিন এবং মেকলেবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পমেরানিয়ায় রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর রাজ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পাশাপাশি এই নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দল সিডিইউ ও এসপিডির জন্য এই ভোট হতে যাচ্ছে জনসমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। অন্যদিকে বামপন্থি ডি লিংকে এবং কট্টর ডানপন্থি এএফডি নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ হিসেবে দেখছে এই নির্বাচনকে।

বার্লিনে এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থি সিডিইউর সঙ্গে বামপন্থি ডি লিংকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। জনমত জরিপগুলোতে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান খুব কম বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সিডিইউ ও এসপিডির জোটে বার্লিনের সরকার পরিচালনা করছেন মেয়র কাই ভেগনার। কেন্দ্রীয় পর্যায়েও এই দুই দলের জোট সরকার রয়েছে। ফলে বার্লিনের ফলাফলকে জাতীয় সরকারের জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ডি লিংকের সম্ভাব্য উত্থান সিডিইউর জন্য বিশেষ বার্তা বহন করতে পারে। সম্প্রতি জার্মানির আরেক রাজ্য সাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি এএফডির শক্তিশালী ফলাফল সিডিইউর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এর পরপরই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের নেতৃত্ব এবং তার সরকারের জনসমর্থন নিয়ে। রোববারের ভোটে সিডিইউ প্রত্যাশিত ফল না করলে সেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

অন্যদিকে মেকলেবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পমেরানিয়ায় লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মধ্য-বামপন্থি এসপিডি এবং কট্টর ডানপন্থি এএফডি। গত ২৮ বছর ধরে বিভিন্ন জোটসঙ্গীকে নিয়ে রাজ্যটি শাসন করছে এসপিডি। বর্তমানে রাজ্যের নেতৃত্বে রয়েছেন জনপ্রিয় রাজ্যপ্রধান এবং সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী মানুয়েলা শ্ভেসিশ। তিনি লেফট পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে জোট সরকার পরিচালনা করছেন।

শুরুতে বিভিন্ন জনমত জরিপে এসপিডির তুলনায় এএফডিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে শ্ভেসিশের প্রচারণায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এএফডির জনপ্রিয়তা ঠেকাতে তিনি ‘দ্য উইমেন অ্যাগেইনস্ট ব্লু’ বা ‘নীলের বিরুদ্ধে নারী’ স্লোগান সামনে এনেছেন। এএফডির দলীয় রং নীল হওয়ায় স্লোগানটি সরাসরি দলটির বিরোধিতাকেই বোঝাচ্ছে।

নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে এএফডির প্রধান প্রার্থী লাইফ-এরিক হোমের সঙ্গে টেলিভিশন বিতর্কেও অংশ নেন শ্ভেসিশ। সেখানে তিনি এএফডিকে জার্মানির দেশ, অর্থনীতি, সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা এবং নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দল হিসেবে বর্ণনা করেন। হোমকে উদ্দেশ করে তিনি অভিযোগ করেন, এএফডির রাজনীতি দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন দলকে কতটা সমর্থন দিচ্ছেন, তার উত্তর মিলবে রোববারের ভোটের ফলেই। দুই রাজ্যের নির্বাচনী ফল শুধু স্থানীয় সরকার গঠনের সমীকরণই বদলাবে না; জার্মানির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন জোট, বামপন্থি শক্তি এবং কট্টর ডানপন্থি এএফডির পারস্পরিক অবস্থান নিয়েও নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেবে।

পূর্বের খবরনতুন পে স্কেলে পুনর্নির্ধারণ হলো ৮ ধরনের ভাতা
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!