ওপেক ছাড়ল আমিরাত: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ

 

ভিনিউজ : বিশ্বজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক (OPEC) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। গত ২৮ এপ্রিল আবুধাবির এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির মূল্য ইতোমধ্যেই অস্থির। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর মধ্যেই ইউএইর ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্তকে অনেকে মধ্যপ্রাচ্যের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যে নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে নীতিগত দূরত্ব এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাকে এ সিদ্ধান্তের পেছনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

১৯৬০ সালে ইরাকের বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ’ (ওপেক)। বিশ্ববাজারে তেলের উৎপাদন ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এই জোট। ১৯৬৭ সালে আবুধাবি ওপেকের সদস্যপদ গ্রহণ করে। পরে ১৯৭১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরও সংগঠনটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে দেশটি।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, ওপেকের উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে ইউএই নিজেদের তেল উৎপাদন বাড়াতে পারছিল না। অথচ সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে দেশটির অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে উৎপাদন বাড়িয়ে রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলার পথ খুঁজছে আবুধাবি।

ওপেকের নীতিমালা অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে নির্দিষ্ট উৎপাদন কোটার মধ্যে থাকতে হয়, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি না হয় এবং তেলের দাম স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু ইউএই এখন সেই সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে উৎপাদন ও রফতানি নীতি নির্ধারণ করতে পারবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলাদা জ্বালানি চুক্তি করতেও আর কোনো বাধা থাকবে না।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইউএই যদি বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়ায়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও, যেখানে আমদানিনির্ভর জ্বালানি অর্থনীতি এখনো বৈশ্বিক বাজারের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

পূর্বের খবরঅতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ১২ কর্মকর্তাকে বদলি