ভিনিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫-এর মতো আধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান শনাক্ত ও মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে সোভিয়েত আমলের পেচোরা এস-১২৫ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করছে রাশিয়া। পুরোনো এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপক বা ‘মোবাইল লঞ্চার’-এর উপযোগী করার পাশাপাশি এর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পেচোরা এস-১২৫ মূলত স্থির অবস্থান থেকে পরিচালিত স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে এটি চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীও ১৯৭০-এর দশক থেকে পেচোরা ব্যবহার করে আসছে।
আধুনিকায়নের গুরুত্বের ক্ষেত্রে পেচোরার সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য হলো ১৯৯৯ সালের কসোভো যুদ্ধ। ওই বছরের ২৭ মার্চ সার্বিয়ার আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-১১৭ নাইটহক স্টিলথ যুদ্ধবিমানকে একটি পেচোরা এস-১২৫ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করা হয়। এফ-১১৭ ছিল বিশ্বের প্রথম কার্যকর অপারেশনাল স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। ফলে অপেক্ষাকৃত পুরোনো একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে স্টিলথ প্রযুক্তির বিমানকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে, সেই ঘটনা সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
পেচোরা ব্যবস্থার প্রচলিত কার্যকর পাল্লা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার। এটি স্বল্প ও মাঝারি উচ্চতায় উড্ডয়নকারী বিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোন মোকাবিলায় ব্যবহার করা যায়। এর রাডার ব্যবস্থা প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে লক্ষ্য শনাক্ত করতে সক্ষম বলে বিভিন্ন সামরিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যামিংয়ের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আধুনিকায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভারতও তাদের পুরোনো পেচোরা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬টি পেচোরা ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য বেঙ্গালুরুভিত্তিক আলফা ডিজাইন টেকনোলজিস লিমিটেডকে প্রায় ৫৯১ কোটি রুপির চুক্তি দেয়। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো ভ্যাকুয়াম টিউব ও ট্রানজিস্টরভিত্তিক অ্যানালগ প্রযুক্তির জায়গায় আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল চিপ ও প্রসেসর যুক্ত করা হয়েছে। এতে ব্যবস্থাটির প্রতিক্রিয়ার সময় কমেছে এবং পরিচালন সক্ষমতা বেড়েছে।
রাশিয়ার নতুন উদ্যোগের তাৎপর্য এখানেই, দশকের পর দশক পুরোনো পেচোরা প্রযুক্তিকে আধুনিক সেন্সর, ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে তুলনামূলক কম খরচে একটি কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা। বিশেষ করে এফ-৩৫-এর মতো স্টিলথ যুদ্ধবিমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়ায় পুরোনো হলেও পরীক্ষিত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
তবে পেচোরা আধুনিকায়ন করা হলেই যে এটি নিশ্চিতভাবে এফ-৩৫ ধ্বংস করতে পারবে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। স্টিলথ বিমানের বিরুদ্ধে যেকোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে রাডার, সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।




