ইতিহাসের সেই বিস্মৃত সমুদ্রযাত্রা : কলম্বাসের ৫০০ বছর আগে আমেরিকায় পা রেখেছিল ভাইকিংরা

ঐতিহাসিক ফিচার প্রতিবেদন

জয়ন্ত আচার্য
সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক

ভিনিউজ: ইতিহাসের প্রচলিত বর্ণনায় ক্রিস্টোফার কলম্বাসই আমেরিকা আবিষ্কারের কৃতিত্বের অধিকারী। ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর তাঁর জাহাজ বাহামা দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ইউরোপের কাছে নতুন এক ভূখণ্ডের দ্বার খুলে যায়। কিন্তু ইতিহাসের পাতা একটু গভীরভাবে উল্টালে দেখা যায়, কলম্বাসের প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগেই উত্তর আমেরিকার উপকূলে পৌঁছে গিয়েছিলেন একদল দুর্ধর্ষ নাবিক। তাঁরা ছিলেন স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ভাইকিং। তাঁদের সমুদ্রজয়ের নেশা, অসাধারণ নৌনির্মাণ কৌশল এবং অজানাকে জানার অদম্য সাহস আজও ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের বিস্মিত করে।

কলম্বাসের আমেরিকা অভিযানের গল্প যেমন রোমাঞ্চকর, ভাইকিংদের সমুদ্রযাত্রার ইতিহাস তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তবে একটি ঐতিহাসিক সত্য শুরুতেই পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কলম্বাস কিংবা ভাইকিং কেউই আমেরিকার প্রথম মানুষ নন। ইউরোপীয়দের আগমনের হাজার হাজার বছর আগে থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। ভাইকিংদের কৃতিত্ব হলো, তাঁরাই ছিলেন আমেরিকা মহাদেশে পৌঁছানো প্রথম প্রমাণিত ইউরোপীয় অভিযাত্রী।

পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপে এশিয়ার মসলা, রেশম, মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য বাণিজ্যপণ্যের চাহিদা ছিল বিপুল। কিন্তু স্থলপথে বাণিজ্য পরিচালনা ছিল ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। পর্তুগিজ নাবিকেরা আফ্রিকার উপকূল ঘুরে ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর পথ খুঁজছিলেন। অন্যদিকে জেনোয়ার নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস বিশ্বাস করতেন, আটলান্টিক মহাসাগর পশ্চিম দিকে পাড়ি দিলেই এশিয়ায় পৌঁছানো সম্ভব। পৃথিবীর আকার সম্পর্কে তাঁর ধারণা বাস্তবের তুলনায় ছোট ছিল। ফলে তিনি এশিয়ায় পৌঁছানোর দূরত্বও অনেক কম হিসাব করেছিলেন।

স্পেনের রাজা ফার্দিনান্দ ও রানি ইসাবেলার পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে ১৪৯২ সালের ৩ আগস্ট কলম্বাস তিনটি জাহাজ নিয়ে স্পেনের পালোস বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন। জাহাজগুলোর নাম ছিল সান্তা মারিয়া, পিন্টা ও নিনা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রায় ৯০ জন নাবিক। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে কিছুদিন অবস্থানের পর ৬ সেপ্টেম্বর তাঁরা আবার পশ্চিমমুখী যাত্রা শুরু করেন। এরপর শুরু হয় অনিশ্চিত আটলান্টিক পাড়ি। দিনের পর দিন সমুদ্রের বুকে শুধু পানি আর পানি। স্থলভাগের কোনো চিহ্ন নেই। নাবিকদের মধ্যে বাড়তে থাকে ভয় ও হতাশা। খাদ্য ও পানির মজুত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে নাবিকেরা ফিরে যাওয়ার দাবিও তোলেন।

অবশেষে প্রায় ৩৩ দিনের সমুদ্রযাত্রার পর ১২ অক্টোবর ভোরে স্থলভাগের দেখা পান তাঁরা। বাহামা দ্বীপপুঞ্জের গুয়ানাহানি দ্বীপে পৌঁছে কলম্বাস মনে করেছিলেন, তিনি এশিয়ার কাছাকাছি কোনো দ্বীপে এসেছেন। তাই স্থানীয় অধিবাসীদের তিনি ইন্ডিয়ান বা ভারতীয় বলে অভিহিত করেন। পরবর্তী সময়ে কিউবা ও হিস্পানিওলা দ্বীপেও যান তিনি। কিন্তু যে এশিয়ার সম্পদের সন্ধানে তাঁর যাত্রা, সেটি আর পাওয়া হলো না। পরিবর্তে ইউরোপের সামনে উন্মোচিত হলো সম্পূর্ণ নতুন এক ভূখণ্ড। এই অভিযানই পরবর্তী সময়ে আমেরিকায় ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপন, দখল ও শোষণের দীর্ঘ ইতিহাসের সূচনা করে।

কিন্তু কলম্বাসের প্রায় ৫০০ বছর আগে কীভাবে উত্তর আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন ভাইকিংরা? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাঁদের অসাধারণ জাহাজ নির্মাণশিল্পে। ভাইকিংরা শুধু যোদ্ধা ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন দক্ষ নাবিক, ব্যবসায়ী, অনুসন্ধানকারী এবং জাহাজ নির্মাতা। তাঁদের জাহাজ নির্মাণের বিশেষ পদ্ধতির নাম ছিল ‘ক্লিংকার বিল্ডিং’। এতে কাঠের একটির ওপর আরেকটি তক্তা আংশিকভাবে বসিয়ে জাহাজের খোল তৈরি করা হতো। অনেকটা ঘরের ছাদের টালির মতো। তক্তাগুলো লোহার পেরেক দিয়ে আটকানো হতো। মাঝের ফাঁক বন্ধ করতে পশুর লোম, উল কিংবা শ্যাওলার সঙ্গে আলকাতরা বা চর্বিজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা হতো, যাতে পানি ভেতরে ঢুকতে না পারে।

জাহাজের কাঠামো ছিল একই সঙ্গে হালকা, মজবুত ও নমনীয়। ফলে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে জাহাজের কাঠামো কিছুটা বাঁকতে পারত, কিন্তু সহজে ভেঙে পড়ত না। লম্বা ও সরু আকৃতির জাহাজগুলোতে থাকত একটি প্রধান মাস্তুল এবং বড় চৌকো পাল। বাতাস অনুকূলে থাকলে পাল তুলে এগিয়ে যেত জাহাজ। বাতাস না থাকলে দুই পাশের দাঁড় টেনে নাবিকেরা জাহাজ চালাতেন। পেছনের ডান দিকে লাগানো বিশেষ দাঁড় দিয়ে দিক নিয়ন্ত্রণ করা হতো। যুদ্ধের জন্য তৈরি লংশিপের পাশাপাশি দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও মালামাল পরিবহনের জন্য তাঁরা অপেক্ষাকৃত চওড়া ও গভীর জাহাজও ব্যবহার করতেন, যেগুলো ‘নার’ নামে পরিচিত। আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার মতো অভিযানে এ ধরনের পণ্যবাহী জাহাজ বিশেষভাবে উপযোগী ছিল।

তাঁদের নৌযানের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল আধুনিক দিকনির্দেশক যন্ত্র ছাড়াই সমুদ্রে পথ খুঁজে নেওয়ার দক্ষতা। সূর্যের অবস্থান, রাতের আকাশের নক্ষত্র, বাতাসের গতিপ্রকৃতি, সমুদ্রস্রোত, ঢেউ এবং সামুদ্রিক পাখির চলাচল পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা পথ নির্ধারণ করতেন। কখনো আকাশে স্থলভাগের ওপর তৈরি বিশেষ মেঘের অবস্থান দেখেও কাছাকাছি ভূমির ধারণা পেতেন। কোনো কোনো গবেষক সূর্যদিক নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলেছেন, যদিও এর ব্যবহার নিয়ে নিশ্চিত ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।

তবে আটলান্টিকের উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড থেকে উত্তর আমেরিকার দিকে যাত্রায় বরফ, ঘন কুয়াশা, প্রবল বাতাস এবং আকস্মিক ঝড় ছিল বড় বিপদ। নৌযাত্রার সময় আবহাওয়া ও সমুদ্রস্রোতের ওপর নির্ভর করত। অনুকূল পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড থেকে ভিনল্যান্ড অঞ্চলে পৌঁছাতে আনুমানিক ৯ থেকে ১৪ দিন লাগতে পারত বলে কিছু গবেষকের ধারণা। তবে সাগার বিবরণে নির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য যাত্রাসময় পাওয়া যায় না। বরফ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই সময় আরও দীর্ঘ হতো। বাস্তবে এটি ছিল কয়েক সপ্তাহের প্রস্তুতি, বিপদ ও অনিশ্চয়তায় ঘেরা এক অভিযান।

ভাইকিংদের এই অভিযানের সূত্র পাওয়া যায় আইসল্যান্ডের প্রাচীন নর্স উপাখ্যান বা সাগায়। বিশেষ করে ‘দ্য সাগা অব এরিক দ্য রেড’ এবং ‘দ্য সাগা অব দ্য গ্রিনল্যান্ডার্স’ নামের দুটি বিবরণে আটলান্টিক পেরিয়ে পশ্চিমের অজানা ভূখণ্ডে পৌঁছানোর কাহিনি রয়েছে। এগুলো ঘটনার কয়েক শতাব্দী পরে লিখিত রূপ পায়। ফলে সব বিবরণকে সরাসরি ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার এসব কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করেছে।

এই অভিযানের পেছনে ছিলেন এরিক দ্য রেড এবং তাঁর পুত্র লেইফ এরিকসন। আইসল্যান্ডে সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরিক নির্বাসিত হন। ৯৮২ সালের দিকে তিনি পশ্চিমে যাত্রা করে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছান। সেখানে বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নেন। গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গড়ে ওঠে নর্সদের উপনিবেশ, যা প্রায় পাঁচ শতাব্দী টিকে ছিল।

এই গ্রিনল্যান্ডই পরবর্তী সময়ে উত্তর আমেরিকায় ভাইকিং অভিযানের প্রধান ঘাঁটি হয়ে ওঠে। তাঁদের যাত্রাপথ ছিল আইসল্যান্ড থেকে গ্রিনল্যান্ড, সেখান থেকে বর্তমান কানাডার ব্যাফিন দ্বীপ, লাব্রাডর উপকূল এবং আরও দক্ষিণের ভূখণ্ড। নর্স উপাখ্যানে এসব অঞ্চলের নাম পাওয়া যায় হেলুল্যান্ড, মার্কল্যান্ড ও ভিনল্যান্ড হিসেবে। হেলুল্যান্ডকে পাথুরে ভূমি, মার্কল্যান্ডকে বনভূমি এবং ভিনল্যান্ডকে আঙুরের দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

উপাখ্যান অনুসারে, লেইফ এরিকসন প্রায় ১০০০ খ্রিষ্টাব্দে ভিনল্যান্ডে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা কাঠ, বন্যপ্রাণী, মাছ এবং উর্বর জমির সন্ধান পান। নতুন ভূখণ্ডে বসতি গড়ার চেষ্টাও করেন। স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংঘাতের কথাও উঠে এসেছে এসব কাহিনিতে। তবে প্রতিকূল পরিবেশ, দীর্ঘ সরবরাহপথ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধের কারণে সেখানে স্থায়ী ও বিস্তৃত উপনিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

ভাইকিংদের উপস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায় কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত ‘ল’আন্স ও মেডোজ’ (L’Anse aux Meadows) এলাকায়। ১৯৬০ সালে নরওয়ের অনুসন্ধানী হেলগে ইঙ্গস্টাড ও তাঁর স্ত্রী প্রত্নতত্ত্ববিদ অ্যান স্টাইন ইঙ্গস্টাড সেখানে প্রাচীন বসতির সন্ধান পান। খননকাজে বেরিয়ে আসে কাঠ ও মাটি দিয়ে তৈরি ঘরবাড়ি, কর্মশালা, লোহার কাজের চিহ্ন এবং নৌযান মেরামতের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী। সেখানে আটটি স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। ১৯৭৮ সালে স্থানটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়।

এই বসতির বয়স নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষকদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান দেন। তাঁরা বসতির কাঠের নমুনায় গাছের বর্ষবলয় এবং ৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের একটি বিশেষ সৌরঝড়ের কারণে সৃষ্ট কার্বন-১৪-এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির চিহ্ন শনাক্ত করেন। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, ১০২১ খ্রিষ্টাব্দে ভাইকিংরা সেখানে কাঠ কাটার কাজ করেছিল। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ কলম্বাসের আমেরিকা পৌঁছানোর ৪৭১ বছর আগেও উত্তর আমেরিকার মাটিতে ইউরোপীয়দের উপস্থিতি ছিল নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত।

তাহলে ভাইকিংরা সেখানে স্থায়ী উপনিবেশ গড়ে তুলতে পারল না কেন? গবেষকদের মতে, স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে বিরোধ, গ্রিনল্যান্ড থেকে দীর্ঘ সমুদ্রপথে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আনা এবং কঠিন আবহাওয়ায় বসতি রক্ষা করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ল’আন্স ও মেডোজ সম্ভবত কেবল একটি বসতি ছিল না; এটি ছিল আরও দক্ষিণে অনুসন্ধান চালানোর ঘাঁটি। গবেষণায় এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায় যে উত্তর আমেরিকায় নর্সদের যাতায়াত একবারের ঘটনা ছিল না। তবে তাঁদের উপস্থিতির বিস্তৃতি ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা।

 

কলম্বাসের সঙ্গে ভাইকিংদের এই ইতিহাসের সম্পর্ক নিয়েও রয়েছে আকর্ষণীয় প্রশ্ন। ১৪৯৭ সালে জন ক্যাবট ব্রিস্টল থেকে উত্তর আমেরিকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। পরবর্তী সময়ে ইংরেজ বণিক জন ডে কলম্বাসকে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, ব্রিস্টলের নাবিকেরা এর আগেও পশ্চিমের অজানা ভূখণ্ডে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁদের সেই অভিযানের সঙ্গে ভাইকিংদের ভিনল্যান্ডের সরাসরি যোগসূত্র কিংবা কলম্বাসের এ বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান ছিল, এমন প্রমাণ নেই।

আজও নিউফাউন্ডল্যান্ডের সেই নিঃশব্দ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এক বিস্মৃত সমুদ্রযাত্রার সাক্ষ্য বহন করছে। কলম্বাসের অভিযান ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগ, বাণিজ্য ও উপনিবেশ স্থাপনের নতুন অধ্যায় খুলেছিল। কিন্তু তারও পাঁচ শতাব্দী আগে ভাইকিংরা আটলান্টিকের উত্তাল জলরাশি পেরিয়ে উত্তর আমেরিকায় পৌঁছে মানুষের ভৌগোলিক জ্ঞানকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে গিয়েছিল। তাঁদের সেই কাঠের জাহাজ, পাল, দাঁড় আর অদম্য সাহস প্রমাণ করে, আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াও মানুষের অনুসন্ধিৎসা কত দূর যেতে পারে। ইতিহাস তাই শুধু বিজয়ীদের নাম মনে রাখে না; কখনো কখনো বিস্মৃত অভিযাত্রীদেরও নতুন করে আবিষ্কার করে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, নেচার, ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র, পার্কস কানাডা, রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনউইচ, ভাইকিং শিপ মিউজিয়াম, স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন এবং কানাডিয়ান মিউজিয়াম অব হিস্ট্রির প্রকাশিত গবেষণা ও ঐতিহাসিক তথ্য।

পূর্বের খবরশাহিদ-মীরার তৃতীয় সন্তানের গুঞ্জন, করীনার অনুষ্ঠানে মুখোমুখি দুই নারী
পরবর্তি খবরপাবনায় বজ্রপাতে একসঙ্গে ছয়জনের মৃত্যু
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!