আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের, ভারতের নিন্দা

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। এই সুপারিশের পর কমিশনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে সমালোচনা করেছে ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, মার্কিন ওই কমিশন ক্রমাগত ভারত সম্পর্কে ‘অবমাননাকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য’ করে আসছে।

রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, ‘এটি একটি চরম পক্ষপাতদুষ্ট সংস্থা। আমি বলব, আমাদের এ ধরনের সংস্থা থেকে দূরে থাকা উচিত; কারণ তাদের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা রয়েছে এবং তাদের কোনো ধরনের গ্রহণযোগ্যতা নেই…আমরা আশা করি না যে ইউএসসিআইআরএফ ভারতের বহুমাত্রিক ও বহুত্ববাদী কাঠামোর বাস্তবতাকে অনুধাবন করবে কিংবা এর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে স্বীকার করে নেবে।’

মার্কিন কমিশন ওয়াশিংটনের প্রতি আরএসএসের নেতাদের কোনো কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানোর আহ্বানও জানিয়েছে। তারা আরএসএসকে একটি ‘ছাতা সংগঠন’ (আমব্রেলা অর্গানাইজেশন) হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার অধিভুক্ত বিভিন্ন সংগঠন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

কমিশনটি আরও বলেছে, ‘এর পরিবর্তে মার্কিন সরকারের উচিত ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতা (এফওআরবি) লঙ্ঘনের জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত আরএসএস সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিকে নজর দেওয়া।’

এর আগে গত মার্চ মাসে প্রকাশিত ইউএসসিআইআরএফের বার্ষিক প্রতিবেদনে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের’ জন্য ভারতের তীব্র সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়ী হিসেবে আরএসএস ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের (র) মতো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার’ সুপারিশ করে সংস্থাটি। সুপারিশে ইউএসসিআইআরএফ ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ (কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন) হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আহ্বানও জানিয়েছিল।

ইউএসসিআইআরএফ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের একটি স্বাধীন ও দ্বিদলীয় সংস্থা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেসকে নীতিগত সুপারিশ দেয় এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন হিন্দুপ্যাক্ট (হিন্দুপিএসিটি) নিউইয়র্কে আরএসএস প্রধানের সফরের বিরুদ্ধে ইউএসসিআইআরএফের সদস্যদের প্রকাশ্য বিরোধিতার নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, মার্কিন সংস্থাটি ‘নিজেদের দায়িত্ব ও উদ্দেশ্যকে কলঙ্কিত করেছে’।

হিন্দুপ্যাক্টের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অজয় শাহ বলেন, ‘এর চেয়ারম্যান যখন ভারত ও আরএসএস নিয়ে কথা বলেন, তখন তাঁকে বহুত্ববাদী একটি মার্কিন কমিশনের প্রধানের চেয়ে কট্টর হিন্দুবিরোধী বয়ানের একজন সমর্থক বলেই বেশি মনে হয়…মোহন ভগবত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে সিএআইআর, আইএএমসি ও এইচএফএইচআরের তৈরি অপবাদ দিয়ে আচরণ করা উচিত নয়। এসব সংগঠন হিন্দুদের আত্মপ্রত্যয়কে চরমপন্থা হিসেবে উপস্থাপন করাকে অভ্যাসে পরিণত করেছে।’

পূর্বের খবরম্যাকাই টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ
পরবর্তি খবরমন্ত্রিসভা আকারে তৃতীয় বৃহত্তম, উপদেষ্টার সংখ্যা সর্বোচ্চ
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!