আজ মহানবমী: দেবীকে নানা উপাচারে আরাধনা করবেন ভক্তরা
ভিনিউজ ডেস্ক:
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন আবহে আজ মহানবমী। পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, হোমযজ্ঞ ও মহাআরতির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সকাল থেকেই ভক্তদের সমাগম, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হয়ে উঠেছে উৎসবের পরিবেশ। তবে পূজার আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মনে এখন বাজছে দেবীর বিদায়ের সুর। কারণ, আর মাত্র এক দিন পরই বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
মহানবমী দুর্গাপূজার একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, এদিন দেবী দুর্গার নবমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ষোড়শ উপাচারসহ নানা ধর্মীয় উপকরণে দেবীর আরাধনা করেন ভক্তরা। পূজার পাশাপাশি অঞ্জলি নিবেদন, প্রসাদ বিতরণ, হোমযজ্ঞ এবং সন্ধ্যায় মহাআরতির আয়োজন করা হয় বিভিন্ন মণ্ডপে। কোথাও কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় আলোচনা সভারও আয়োজন রয়েছে।
আমাদের জেলা প্রতিনিথি পাঠানো পাঠানো রিপোর্ট আলোকে সিলেট বরিশাল সহ পূজামণ্ডপে মহানবমী উপলক্ষে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। অঞ্জলি নিবেদনের পর দুপুর থেকে মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যায় মহাআতির আয়োজন করা হয়েছে। নগরীর তোপখানা ও কাজলশাহ বাগবাড়ি পূজামণ্ডপে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একইভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে পালিত হচ্ছে মহানবমী।
দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় আচার সন্ধিপূজা। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট, মোট ৪৮ মিনিটের এই বিশেষ সময়ে দেবী চামুণ্ডার আরাধনা করা হয়। প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, সন্ধিপূজায় ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালন এবং ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদন করা হয়।
পুরাণের কাহিনি অনুসারে, দেবী দুর্গা অসুরবিনাশের মাধ্যমে অশুভ শক্তির পরাজয় এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। চণ্ড, মুণ্ড ও রক্তবীজসহ অসুরদের বিনাশের মধ্য দিয়ে দেবী অন্যায়, অত্যাচার ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ের বার্তা দিয়েছেন। মহানবমীর পূজা তাই শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, ন্যায়, সত্য ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠার এক প্রতীকী আয়োজনও।

অন্যদিকে, মহানবমীকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে রামায়ণের স্মৃতিও। প্রচলিত পৌরাণিক বর্ণনা অনুযায়ী, রাবণ বধের আগে রামচন্দ্র দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। ১০৮টি নীলপদ্ম নিবেদনের মাধ্যমে দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনার সেই কাহিনি দুর্গাপূজার সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে। এ কারণে নবমীর পূজায় ১০৮টি পদ্ম নিবেদনের ঐতিহ্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা এবং মহাষষ্ঠীতে বোধনের পর শুরু হয় মূল দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সপ্তমী, অষ্টমী পেরিয়ে মহানবমীতে এসে পূজার উৎসব প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়। আগামীকাল বুধবার বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক থেকে কৈলাসে ফিরে যাবেন দেবী, এমন ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে।
দেবীর বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় পূজামণ্ডপগুলোতে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের আবহও তৈরি হয়েছে। ঢাকের বাদ্য, ধূপের গন্ধ, আরতি ও প্রার্থনায় মহানবমীর দিনটি কাটবে ভক্তদের। বিদায়ের বেদনা নিয়েও তাঁদের প্রত্যাশা, আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গা ফিরে আসবেন পৃথিবীতে।




