‘আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে, পিঠে ছুরি আর বুকে আঘাত করা হয়েছে’—বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ২০ কোটি টাকার অনুদান বাতিলের ঘটনায় এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্থার বর্তমান সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
ধানমন্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য দেওয়া এ অনুদান ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় ধাক্কা।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ২০২২ সালে ১০ কোটি এবং ২০২৪ সালে আরও ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এই অর্থ সোনালী ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে জমা রাখা হয় এবং এর লভ্যাংশ নারী ক্রীড়া উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা ছিল।
সংস্থার দাবি, গত আগস্ট পর্যন্ত তারা নিয়মিত লভ্যাংশ পেয়েছে। পরে হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা মৌখিকভাবে জানতে পারে যে ২০ কোটি টাকার অনুদান বাতিল করে তা ফেরত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, অনুদানের শর্তে অর্থ ফেরত নেওয়ার কোনো বিধান ছিল না। তারা এ সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান এবং অনুদান পুনর্বহালের আহ্বান জানান।

শর্তানুযায়ী, এফডিআরের লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের মহিলা ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য ব্যয় হওয়ার কথা এবং বাকি ২০ শতাংশ মূল ‘সিড মানি’র সঙ্গে যুক্ত থাকার নিয়ম ছিল।
৫.৫ শতাংশ সুদে তিন মাস পরপর এই লভ্যাংশ পেয়ে আসছিল মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ তারা ১৫ লাখ টাকা এবং একই বছরের ৩০ এপ্রিল ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকাসহ এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পরও লভ্যাংশপ্রাপ্তি অব্যাহত ছিল। এরপর ২০২৫ সালের অক্টোবরে বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে।
সংস্থাটি সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে এফডিআরের লভ্যাংশ পেয়েছিল। এর পর থেকে লভ্যাংশ আসা বন্ধ হয়ে গেলে গত ডিসেম্বরে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় চিঠি পাঠান। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো লিখিত উত্তর বা সশরীর হাজির হয়েও কোনো সদুত্তর মেলেনি। অবশেষে ৬ মে ব্যাংক থেকে সংস্থাকে মৌখিকভাবে জানানো হয় যে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার এই ২০ কোটি টাকার অনুদান ড. ইউনূস সরকার বাতিল করে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নিয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, অনুদানের শর্তে এমন কোনো ধারা ছিল না, যার মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত নেওয়া যায়। এই সিদ্ধান্তকে নারী সমাজের ওপর একটি কঠিন আঘাত হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে কী উপায়ে এবং কার নির্দেশে এই রাষ্ট্রীয় অনুদান বাতিল করা হলো, তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের কাছে। বর্তমান সরকারের ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ স্লোগানের প্রতি আস্থা রেখে, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনুকূলে এই ২০ কোটি টাকার অনুদান দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন সভানেত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা ফিরোজা করিম নেলী, কোষাধ্যক্ষ রওশন আখতার ছবিসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




