ভিনিউজ ডেস্ক : শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সময়, শৈশবের উচ্ছ্বাস আর হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে ফিরে দেখার উপলক্ষ। সময় এগিয়ে যায়, জীবনের ব্যস্ততা বাড়ে, কিন্তু উৎসব ঘিরে জমে থাকা স্মৃতিগুলো থেকে যায় মনের গভীরে। ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের কাছেও দুর্গাপূজা মানেই আনন্দ আর ফেলে আসা দিনের স্মৃতিচারণা।
সময়ের সঙ্গে উদ্যাপনের ধরন বদলালেও উৎসবের আনন্দ যে ফুরিয়ে যায়নি, সে কথাই জানিয়েছেন তিনি। অপু বিশ্বাস সমকালকে বলেন, ‘পূজা মানেই আনন্দ। সময়ের সঙ্গে সেই আনন্দ-উদ্যাপনের ধরন কিছুটা বদলেছে, কিন্তু নিঃশেষ হয়নি। এখন দুর্গাপূজায় ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিনগুলোয় বগুড়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। কী যে এক উচ্ছ্বাস, উল্লাসের ছিল সেই দিনগুলো—তা বলে শেষ করা যাবে না।’
বগুড়ায় কেটেছে অপুর শৈশব। সেখানকার পূজার দিনগুলো ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে আনন্দ করার সময়। বাবা-মা, কাকা-কাকিসহ আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে তাঁদের বাড়ি হয়ে উঠত উৎসবমুখর। নতুন জামা পরে ভোরে প্রতিমা দেখতে যাওয়া, মায়ের ভোগের খাবার আর সবার সঙ্গে হইহুল্লোড়, সবকিছু মিলিয়ে রঙিন হয়ে উঠত তার পূজা।
অপুর কাছে মহাষ্টমীর ভোগের স্মৃতিও বিশেষ। ভোগের থালায় খিচুড়ি, লাবড়া আর নানা পদের ভাজা ছিল তাঁর ভীষণ প্রিয়। সেই খাবারের স্বাদ আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আজও তাঁর কাছে অমূল্য।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বগুড়ায় জন্ম অপু বিশ্বাসের। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। নাচ শেখার সুবাদে একসময় অভিনয়জগতে পা রাখেন তিনি। ২০০৫ সালে বরেণ্য নির্মাতা আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।
তবে পরের বছর এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান অপু। শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর এই জুটির একের পর এক সিনেমা বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। ঢালিউডে শাকিব-অপু জুটি হয়ে ওঠে দর্শকের অন্যতম পছন্দ।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’, ‘আমার জান আমার প্রাণ’, ‘তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’, ‘মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’ ও ‘কোটি টাকার প্রেম’-এর মতো বেশ কিছু আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন অপু বিশ্বাস।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও যুক্ত হয়েছেন এই অভিনেত্রী। ‘লাল শাড়ি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। দুই দশকের ক্যারিয়ারে নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও ঢালিউডে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন অপু বিশ্বাস।
– সমকাল




