মেসিকে থামানো এত কঠিন কেন? প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের চোখে আর্জেন্টাইন মহাতারকা

ভিনিউজ স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা। আবার একই সঙ্গে সেটি ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জও। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসির মুখোমুখি হওয়া একাধিক ফুটবলার ও বিশেষজ্ঞ তাঁর অসাধারণ দক্ষতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় মেসির। সেই ম্যাচে খেলেছিলেন সার্বিয়ার ডিফেন্ডার ইভান এরজিচ। তিনি বলেন, তখন তারা মেসিকে নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনা করেননি, কারণ তাঁর সামর্থ্য সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা ছিল না। কিন্তু ম্যাচেই মেসি একটি অ্যাসিস্ট ও একটি গোল করে নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন।

পরে আরও কয়েকবার মেসির বিপক্ষে খেলা এরজিচের ভাষায়, মেসির ড্রিবলিং আগাম বোঝা প্রায় অসম্ভব। প্রতিপক্ষ সামান্য ভারসাম্য হারালেই তিনি দিক বদলে বেরিয়ে যান। এমনকি মনে হয় বল কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু মুহূর্তেই আবার বল নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেন।

ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার উইলিয়াম গালাসও মেসিকে থামানোর উপায় নিয়ে অসহায়ত্বের কথা বলেছেন। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে মেসির অসংখ্য ভিডিও দেখেও তিনি কোনো কার্যকর সমাধান খুঁজে পাননি। তাঁর মতে, মাত্র ১৮ বছর বয়সেই মেসি ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান, আর তাঁর বিপক্ষে খেলার চেয়ে তাঁর খেলা দেখাই বেশি উপভোগ্য।

অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের সাবেক গোলরক্ষক গোরকা ইরাইজজ, যিনি মেসির বিপক্ষে ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন, বলেন, মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত গোপন রাখা। তিনি খুব কম নড়াচড়া করেন, শট বা পাসের দিক বোঝার সুযোগ দেন না। সঠিক মুহূর্তে শরীরের ভারসাম্য ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে আক্রমণ শেষ করেন।

গালাস আরও একটি বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বল পায়ে না থাকলে মেসিকে অনেক সময় হাঁটতে দেখা যায়। কিন্তু সেই সময়ই তিনি চারপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রতিপক্ষের অবস্থান বিশ্লেষণ করেন। ফলে বল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কী করতে হবে, তা আগেই ঠিক করে রাখেন। যেন অন্যদের তুলনায় কয়েক ধাপ এগিয়ে চিন্তা করেন।

ভ্যালেন্সিয়ার সাবেক মিডফিল্ডার পাবলো হার্নান্দেজও একই মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, মেসি অন্য সবার চেয়ে অন্তত দুই সেকেন্ড আগে খেলার পরিস্থিতি বুঝতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন।

 

মেসির এই অসাধারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে গবেষণাও হয়েছে। ফলিত গণিতের অধ্যাপক ও ‘টুয়েলভ ফুটবল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড সাম্পটার বলেন, সেরা ফুটবলাররা এমন ফাঁকা জায়গা খুঁজে পান, যা অন্যদের চোখে ধরা পড়ে না। তাঁর মতে, সাধারণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা কয়েক সেকেন্ড আগের পরিস্থিতি অনুমান করতে পারলেও মেসিকে দেখে মনে হয় তিনি যেন অনেক আগেই খেলার পরবর্তী চিত্র কল্পনা করে ফেলেন।

ড্রিবলিং, ভারসাম্য, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং খেলার পরিস্থিতি আগেভাগে পড়ে ফেলার বিরল ক্ষমতাই মেসিকে প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে। তাই বিশ্বের অনেক অভিজ্ঞ ফুটবলারের কাছেই লিওনেল মেসিকে থামানোর কোনো নির্ভুল সূত্র আজও অজানা।

পূর্বের খবরনেপালে রাইডশেয়ার চালকের আত্মহত্যা, জেন জি প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
পরবর্তি খবরহরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজে আবারও অবরোধ, অন্য জাহাজ থেকে ২০% ফি আদায়ের ঘোষণা ট্রাম্পের
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!