ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প
ভিনিউজ ডেস্ক : যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া এবং জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে—মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এমন প্রতিবেদন সরাসরি অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো প্রস্তাব দেননি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে যে তিনি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং দেশটির জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো প্রস্তাব তিনি দেননি।

এর আগে অ্যাক্সিওসের এক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে তেহরানের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চায় ওয়াশিংটন। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার এবং দেশটির আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
তবে ওই খবর প্রকাশের পরই ট্রাম্প তা নাকচ করে দেওয়ায় যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সোমবার কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেহরানের সাত দফা পরিকল্পনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা ওই প্রস্তাবের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আরাঘচি বলেন, ইরানের দেওয়া শর্তগুলো অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক। তেহরান আশা করছে, মঙ্গলবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যাবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইরানের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, তা অপপ্রচার। পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এর আগে শনিবার ইরানের দেওয়া সাত দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তেহরান এমন একটি চুক্তি করতে চাইছে যার মাধ্যমে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, কারণ ইরান ‘খুব বাজেভাবে হারছে’।
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে আরাঘচি জানিয়েছিলেন, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় থাকবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং ওই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেলও পরিবহন হচ্ছে।
এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা এগোচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এখন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।




