বিবিসি প্রতিবেদন : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের, অবরোধও চলবে

 

ভিনিউজ : ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে। তবে একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

চলতি সপ্তাহেই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আলোচনায় অনিশ্চয়তা থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নৌ অবরোধ জোরদার করে।

এদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও আলোচনার অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ সফরের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনার কাঠামো ও অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই এই সফর স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যুদ্ধবিরতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ইরান, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা ইরানের হয়ে অস্ত্র বা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সংগ্রহ ও পরিবহনে সহায়তা করেছে।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব সম্পদ জব্দ করা হবে এবং মার্কিন নাগরিকদের তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি যেসব প্রতিষ্ঠানে এসব সত্তার ৫০ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা রয়েছে, সেগুলোকেও একই বিধিনিষেধের আওতায় আনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নেটওয়ার্ক ইরানকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনে সহায়তা করছে, যা সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এটি বৃহত্তর ‘অপারেশন ইকনমিক ফিউরি’র অংশ, যার লক্ষ্য ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রাখা এবং আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা। ট্রাম্প প্রশাসনের আশা, অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তির দিকে নিয়ে আসবে।

অন্যদিকে এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহের কারণে তেলের দাম ওঠানামা করছে। দিনের শুরুতে দাম কিছুটা বাড়লেও পরে তা কমে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। ইরান ইতোমধ্যে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাময়িক স্বস্তি দিলেও চূড়ান্ত সমাধান এখনো দূরবর্তী। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও উভয় পক্ষের অবস্থান কতটা নমনীয় হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

পূর্বের খবরএইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই, রুটিন প্রকাশ
পরবর্তি খবরপশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন : তৃণমূল-বিজেপি লড়াইকে ঘিরে উত্তাপ তুঙ্গে