‘
ভিনিউজ : ঈশা রিখী ও মেরি কমের বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গে মাহীর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে-ব্যক্তিগত সম্পর্ক কি রিয়্যালিটি শোয়ের বিনোদনের উপকরণ হতে পারে?
হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস্’-এর ২০তম মৌসুম শুরু হয়েছে মাত্র কয়েক দিন আগে। সালমন খানের সঞ্চালনায় নতুন এই মৌসুম ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিযোগীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, মতবিরোধ, ঝগড়া ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সহ-প্রতিযোগীদের বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন টেলিভিশন অভিনেত্রী মাহী বিজ।
‘বিগ বস্’-এর ঘরে এক আড্ডায় ঈশা রিখী ও বক্সিং তারকা মেরি কমের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন মাহী। মাহী নিজেও স্বামী ও অভিনেতা জয় ভানুশালীর সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্যের পর বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন। ফলে নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঈশা ও মেরির ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গ জুড়ে দেওয়ায় তাঁর মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কণিকা মাহীর কাছে জানতে চাইলে তিনি ‘সিঙ্গল’ কি না। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তখন বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি মাহী। পরে ঈশার সঙ্গে আলাপ চারিতায় তিনি জানান, অন্যদের নিয়ে গসিপ করতে তাঁর ভালোই লাগে। এরপরই ঈশা ও মেরি কমের বিবাহ বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে মাহী বলেন, তাঁদের তিনজনেরই নাকি ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ চলছে। এমনকি তিনি মজা করে পরিস্থিতিকে ‘ডিভোর্সি স্পেশ্যাল’ বলেও উল্লেখ করেন।
মাহীর এই মন্তব্যে ঈশাকে অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়। নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে ঈশা স্পষ্ট করে জানান, তিনি বরাবরই ব্যক্তিগত বিষয় আড়ালে রাখতে চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষ যেন তাকে কোনো পুরুষের প্রেমিকা বা স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং নিজের পরিচয়েই চিনতে পারে।
কিন্তু এরপরও মাহীর সঙ্গে ঈশার কথোপকথন থামেনি। মাহী দাবি করেন, গত কয়েক মাস ধরে ঈশার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ইন্টারনেটে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। তখন ঈশা নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করেন। তার কথায়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিচয়ের বাইরে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর মাহী মেরি কমের বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে বক্সিং তারকা বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গে মুখ খুলতে অস্বীকার করেন। মাহী তখন বলেন, প্রাক্তন সঙ্গী সম্পর্কে সবসময় নেতিবাচক কথা বলার প্রয়োজন নেই; সম্পর্কের ভাল দিকও থাকতে পারে।
তবে মাহীর এই কথাবার্তায় আপত্তি জানান ঈশা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন তাঁরা দু’জনেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে চাইছেন না, তখন কেন বারবার সেই প্রসঙ্গ সামনে আনা হচ্ছে। এই প্রশ্নের পরই ঘরের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহীর নিজের ব্যক্তিগত জীবনও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। ২০১১ সালে জয় ভানুশালীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ১৪ বছরের দাম্পত্যের পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন। তবে বিচ্ছেদের পরও মেয়ের দায়িত্ব দু’জনে একসঙ্গেই পালন করছেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, ঈশা রিখী ও র্যাপার বাদশার সম্পর্ক দীর্ঘদিন গোপনই ছিল। ২০২৬ সালের মার্চে ঈশার মায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ছবির মাধ্যমে তাঁদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই তাঁদের বিচ্ছেদের খবর সামনে আসে।
‘বিগ বস্’-এর মতো রিয়্যালিটি শোয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। বরং প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অতীতের ঘটনা ও বিতর্কই অনেক সময় অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনিচ্ছা সত্ত্বেও আলোচনায় টেনে আনা কতটা যুক্তিযুক্ত-মাহীর মন্তব্য সেই প্রশ্নই আবার সামনে এনে দিয়েছে। ফলে ‘বিগ বস্ ২০’-এর শুরুতেই ‘ডিভোর্সি স্পেশ্যাল’ মন্তব্যটি যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলাই যায়।
-আনন্দবাজার




