ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
বিবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে।
বর্তমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বৈঠকস্থল হিসেবে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এখনো ওয়াশিংটন ত্যাগ করেননি। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা আলোচনায় অংশ নেবে কি না সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে ২৭টি জাহাজকে ফেরত পাঠানো বা আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটিকে আটক করা হয়। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সতর্কবার্তার পর মার্কিন সেনারা জাহাজটিতে ওঠে।
এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে ইরান বলেছে, এটি দুই দেশের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। প্রায় দুই মাস ধরে ইরান নিজস্ব অবস্থান থেকে হরমুজ প্রণালিতে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে রেখেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে ইরান এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি। পাকিস্তান আশা করছে, দুই পক্ষকে আলোচনায় এনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।




