ইসরায়েলের পক্ষে নেতানিয়াহুর বক্তব্য, জাতিসংঘে বহু প্রতিনিধির ওয়াকআউট
ভিনিউজ ডেস্ক:
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তার বক্তব্য শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘের সভাকক্ষ থেকে বহু দেশের প্রতিনিধি বেরিয়ে যান। এ ঘটনায় অধিবেশনকক্ষে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিরোধিতা ও সমর্থনের দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল কোনো গণহত্যা চালায়নি; বরং দেশটি গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে। ইসরায়েল ও দেশটির সেনাবাহিনীকে নিয়ে যারা ‘মিথ্যা’ প্রচার করছেন, তাদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হওয়ার পরপরই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সভাকক্ষ ত্যাগ করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে নেতানিয়াহু তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন। এ সময় গ্যালারিতে থাকা তার সমর্থকেরা হিব্রু ভাষায় ‘ইসরায়েলের জনগণ বেঁচে আছে’-এমন স্লোগান দেন।
ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। এর আগে মামদানি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছিলেন। পরে অবশ্য মামদানি স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার মতো আইনি এখতিয়ার তার নেই।
নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে বলেন, তাকে জাতিসংঘে আসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তাকে চুপ করানোরও চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কোনোভাবেই তাকে চুপ করানো যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে মামদানিকে হামাসের সমর্থক হিসেবেও উল্লেখ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর এক বিবৃতিতে তার সমালোচনা করেন মামদানি। তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু তার ভাষণে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যাচার’ পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং এর উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া। মামদানি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
এদিকে নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিক্ষোভও হয়েছে। জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ের কাছে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ রাস্তা অবরোধ করে ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করার দাবি জানান। তারা গাজা ও ইরানের জনগণের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
জাতিসংঘে ভাষণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরায়েল তার রাষ্ট্রকে রক্ষা করে যাবে এবং ‘জয়ী হতে থাকবে’, কারণ তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। হামাসসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ট্রাম্পের সহযোগিতার প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘বর্বরদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বড় কোনো সহযোগী আমরা পাইনি।’
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চকেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার কাজে ব্যবহার করেছেন। তবে তার ভাষণের সময় প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট এবং নিউইয়র্কের বিক্ষোভ গাজা যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মতভেদের গভীরতাও স্পষ্ট করেছে।
-ডয়েসে ভেলে




