ইরান দুষ্ট, অসুস্থ ও নোংরা, ওদের সঙ্গে সমঝোতা শেষ: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর মতে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক এখন কার্যত ‘শেষ’। আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ‘সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়’। ট্রাম্প বলেন, ‘ওদের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই হয় না।’ খবর আল জাজিরার

সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন, ‘গত রাতে আমরা তাদের (ইরানকে) খুব কঠোরভাবে আঘাত করেছি। আমি তাদের বলেছিলাম, তোমরা যতবার হামলা করবে, আমরাও ততবার পাল্টা আঘাত করব।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘তারা নোংরা খেলোয়াড়। তাই তারা সবার ওপরই হামলা চালায়, সম্ভবত আমার ওপরও।’

ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের পছন্দ করি না। আমি তাদের পছন্দ করি না। তারা দুষ্ট মানুষ। বিষয়টি হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করা। আমরা ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতামুক্ত করব।’

ন্যাটোকেও একহাত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি ন্যাটোর ওপর সন্তুষ্ট নই। কারণ, তারা বিশ্বের এক নম্বর রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষক সন্ত্রাসবাদী দেশ, অর্থাৎ ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সহায়তা করতে চায়নি।’

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। তবে এবার তিনি তাঁদের উদ্দেশে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘ওদের মধ্যে কিছু একটা সমস্যা আছে। তারা অসুস্থ। তারা খারাপ মানুষ। তারা নোংরা খেলোয়াড়।’ সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য হিসেবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে বিষয়টি শেষ হয়ে গেছে।’

তবে একই সঙ্গে তিনি আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি। তিনি বলেন, ‘তবু আমি হয়তো আমার অসাধারণ আলোচকদের আলোচনা চালিয়ে যেতে দিতে পারি।’ ট্রাম্পের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি কেবল ইরানের উদ্দেশে কঠোর রাজনৈতিক বার্তা, নাকি প্রায় তিন সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক সত্যিই বাতিল হতে যাচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলার পর তিনি যখন যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে থাকা সমঝোতা স্মারককে শেষ বলে মন্তব্য করেন, তখন নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে ১ দশমিক ৬ শতাংশ দরপতন ঘটে। মার্কিন ডলারের মূল্য শক্তিশালী হয় এবং সরকারি বন্ডের ফলনও বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকিও আবার বৃদ্ধি পেতে পারে।

পূর্বের খবরব্রহ্মস ও অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে ভারতের সঙ্গে চুক্তির পথে ইন্দোনেশিয়া
পরবর্তি খবরবিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে টিকিটের দামে বড় পতন, নেপথ্যে রোনাল্ডো-যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!