ইয়িলদিরিমহান’- শব্দের চেয়েও ২৫ গুণ দ্রুতগতির তুরস্কের প্রথম আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র,বিশ্বজুড়ে আলোচনা

‘ভিনিউজ : তুরস্ক প্রথমবারের মতো তাদের তৈরি আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইয়িলদিরিমহান’ প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেছে। ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাহা এক্সপোর প্রথম দিনেই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের নতুন এই সক্ষমতা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তুর্কি ভাষায় ‘ইয়িলদিরিম’ শব্দের অর্থ বজ্র, আর ‘ইয়িলদিরিমহান’ অর্থ ‘বজ্রের শাসক’। ক্ষেপণাস্ত্রটির গায়ে অটোমান সুলতান প্রথম বায়েজিদের মনোগ্রাম এবং আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক–এর প্রতীক খোদাই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তুরস্ক ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও আধুনিক সামরিক শক্তির প্রতীকী সমন্বয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসার গুলের জানিয়েছেন, এটি দেশটির প্রথম তরল জ্বালানিচালিত আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র। তিনি দাবি করেন, এতে হাইপারসনিক প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি তুরস্কের তৈরি সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।

প্রদর্শনীতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ইয়িলদিরিমহানের পাল্লা প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার। এতে চারটি রকেট ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি শব্দের গতির চেয়েও প্রায় ২৫ গুণ বেশি গতিতে চলতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড জ্বালানি ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

যদিও ক্ষেপণাস্ত্রটির বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবুও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে এটি তুরস্কের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক দেশ তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত পাল্লা গোপন রাখে বা কম দেখিয়ে থাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পেয়েছে। এর আগে দেশটি ‘টাইফুন ব্লক ফোর’ নামে একটি দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছিল। সেই ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্লা এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া ‘জাংক’ নামে আরেকটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও কাজ করছে তুরস্ক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়িলদিরিমহান শুধু একটি সামরিক প্রকল্প নয়, বরং এটি তুরস্কের ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছে।

আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম এমন এক ধরনের অস্ত্র, যা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। অনেক ক্ষেত্রে একটি ক্ষেপণাস্ত্রেই একাধিক ওয়ারহেড বহনের সুবিধা থাকে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর পাশাপাশি ভারত, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের কাছেও এ ধরনের প্রযুক্তি রয়েছে।

তুরস্কের নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পূর্বের খবরহরমুজ প্রণালিতে ফের উত্তেজনা, যুদ্ধবিরতি বহালের দাবি ট্রাম্পের
পরবর্তি খবরশুভেন্দু অধিকারীই পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!