স্বামী-ভাইয়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার পেরিয়ে সংসদে মিষ্টি, পাঁচ মাসেই শেষ অধ্যায়

 

ভিনিউজ ডেস্ক : বিএনপির রাজনীতিতে পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংসদীয় অধ্যায় শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই শেষ হলো। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি বছরের মে মাসে জাতীয় সংসদে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। তবে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন তিনি। ১ অক্টোবর সংসদে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক জীবনের শুরু কলেজ থেকেই। ১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া মিষ্টি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে কলেজ ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক বা এজিএস নির্বাচিত হন। তার বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু তখন ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

২০০২ সালে স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন নিহত হওয়ার পর মিষ্টি স্থানীয় নির্বাচনে সরাসরি অংশ নেন। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, সাধারণ ওয়ার্ডের ভোটারদের সরাসরি ভোটে কমিশনার নির্বাচিত হন মিষ্টি। পরবর্তী সময়েও তিনি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেন। ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনের আগে তৃতীয়বারের মতো সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

মিষ্টির স্বামী নিউটনও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পান। ২০০২ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নেওয়ার মাত্র তিন দিন পর ১০ মে ধানমন্ডিতে গুলিতে নিহত হন তিনি। তাঁর হত্যাকাণ্ডে করা মামলায় ২০০৬ সালে বিচারিক আদালত ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্টের রায়ে কয়েকজন খালাস পান এবং কয়েকজনের সাজা পরিবর্তিত হয়।

মিষ্টির বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুও বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি-দুই পদেই দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ২০১৩ সালে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ২০১৫ সালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে মিষ্টির রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায়ের সূত্রপাত হয় মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায়। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের পর সেখানে একটি সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। অনুসন্ধানে ২০০৬ সালে ওই সমিতির পক্ষ থেকে জায়গা বরাদ্দ চেয়ে করা আবেদনে মিষ্টির স্বাক্ষরের তথ্য সামনে আসে। হামলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও প্রকাশিত হয়। তবে মিষ্টি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সমিতির সঙ্গে বর্তমানে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সঙ্গেও তিনি জড়িত নন।

ঘটনার পর বিএনপিতে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ১ অক্টোবর সংসদে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একই দিনে তাঁর সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য হয়। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর জাতীয় সংসদে তাঁর প্রথম মেয়াদ প্রায় পাঁচ মাসেই শেষ হলো।

পূর্বের খবরশারদীয় সাজে পূজা চেরি : ভক্তদের জানালো শুভেচ্ছা
পরবর্তি খবরময়মনসিংহে বাসচাপায় অটোরিকশার ৭ আরোহী নিহত
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!