রাজনৈতিক পালাবদল নিয়ে মুখ খুললেন শ্রাবন্তী

 

ভিনিউজ : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, এই পরিবর্তনের খবর শোনার পর প্রথমেই তাঁর মনে পড়েছিল ‘অভয়া’র মায়ের কথা। শ্রাবন্তীর বিশ্বাস, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর মেয়ের হত্যার বিচার পেতে পারেন।

শ্রাবন্তী বলেন, একজন মা হিসেবে তিনি চান, অভয়ার মা যেন ন্যায়বিচার পান। তাঁর ভাষায়, একজন মায়ের এই নিরলস লড়াই গভীর শ্রদ্ধার দাবি রাখে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, জনগণের রায়ই শেষ কথা। যদি সত্যিই পরিবর্তনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কল্যাণ হয়, কর্মসংস্থান বাড়ে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো উচিত।

গত নির্বাচনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র আহ্বানে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, একজন শিল্পী হিসেবেই প্রচারে গিয়েছিলেন। শ্রাবন্তীর মতে, শিল্পীদের ওপরও নানা ধরনের সামাজিক ও পেশাগত চাপ থাকে, যা সাধারণ মানুষ অনেক সময় উপলব্ধি করেন না।

রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শ্রাবন্তী সোজাসাপ্টা বলেন, রাজনীতি তাঁর জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র নয়। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

এই পরাজয় নিয়ে এখনও তাঁর কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে। কারণ, বেহালা পশ্চিম তাঁর শৈশব, পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার জায়গা। মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পেলে তিনি ভালো কিছু করতে পারতেন বলে তাঁর বিশ্বাস। তবে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েই তিনি বুঝতে পারেন, রাজনীতি তাঁর প্রকৃত ক্ষেত্র নয়।

বিজেপিতে থাকার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শ্রাবন্তী বলেন, সেই সময় তাঁর মনে হয়েছিল দলটির পশ্চিমবঙ্গকে আরও গভীরভাবে বোঝা প্রয়োজন। বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে এবং দলটি রাজ্যের বাস্তবতা সম্পর্কে অনেক বেশি অবগত হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। নতুন সরকারের কাছে তাঁর প্রধান প্রত্যাশা নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি চান, কর্মক্ষেত্র বা অন্য প্রয়োজনে রাতে বাড়ি ফেরা নারীরা যেন নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন। পাশাপাশি যোগ্য অথচ বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, সড়ক ও যানজট সমস্যার সমাধান এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
চলচ্চিত্র শিল্প নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রাবন্তী। তাঁর মতে, শিল্পীদের কাজের স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং কোনো শিল্পী যেন রাজনৈতিক মতভেদের কারণে কাজ থেকে বঞ্চিত না হন। গ্রুপিং ও লবিংয়ের সংস্কৃতি দূর করে যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শ্রাবন্তী এখন অভিনয়েই মনোযোগ দিতে চান। তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি আশা করেন, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করে তুলবে।

 

পূর্বের খবরএকটি যুদ্ধ শেষ, আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি খবরযে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ, এখন বাস্তবেও তাই দেখা যাচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার