রয়র্টাসের প্রতিবেদন : পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিয়েভে উইটকফ-কুশনার, শান্তি আলোচনায় নতুন তৎপরতা

 

ভিনিউজ : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। এর আগে তারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন।

যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের আকাশসীমা এখনও বন্ধ থাকায় মার্কিন দুই দূত পোল্যান্ড থেকে ট্রেনে করে কিয়েভে পৌঁছান। তাদের সফরকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের মার্কিন প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিয়েভে পৌঁছানোর পর উইটকফ ও কুশনারকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারাও অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ফলে এবারের বৈঠকে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন নয়, ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদেরও সম্পৃক্ততা থাকছে।

সফরের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার জন্য কিয়েভ প্রস্তুত। তিনি বলেন, ইউক্রেনের শান্তি প্রয়োজন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রয়োজন এবং যুদ্ধের পর একটি ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রস্তাবও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

কিয়েভ সফরের ঠিক আগের দিন মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ ও কুশনার। দীর্ঘ এই বৈঠককে ঘিরে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে বৈঠক শেষে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বা সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে গঠনমূলক, খোলামেলা ও প্রয়োজনীয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার চেষ্টা করছেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই প্রচেষ্টা অনেকটাই থমকে যায়। জানুয়ারিতে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা হলেও সেখান থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আসেনি।

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ইউক্রেন দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ন্যায্য শান্তির ওপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়াও নিজেদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই কিয়েভে উইটকফ ও কুশনারের উপস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মস্কো ও কিয়েভ-দুই পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত কোনো গ্রহণযোগ্য শান্তির কাঠামো তৈরি করতে পারে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।

পূর্বের খবরডয়েসে ভেলে প্রতিবেদন : সাক্সনি-আনহাল্টে নির্বাচন: ক্ষমতার স্বপ্নে কট্টর ডানপন্থি এএফডি
পরবর্তি খবরপেপারবিহীন সংসদ প্রতিষ্ঠায় ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!