বেনাপোলে দীনেশ ত্রিবেদী: ‘ভারত ও বাংলাদেশের মানুষকে আলাদা করে দেখি না’

 

ভিনিউজ : সড়কপথে বাংলাদেশে এসে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন জটিলতা, বিশেষ করে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে নতুন পথ খোঁজার কথা বলেছেন বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন , ‘ভারত ও বাংলাদেশের মানুষকে আলাদা করে দেখি না’ । বাংলাদেশে পা রেখেই তিনি ভিসা ও দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত দেমন ।

শুক্রবার দুপুরে স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পবন কুমার তুলসীদাস বাধে এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল আরিফ মাহমুদ তাঁকে স্বাগত জানান।

ইমিগ্রেশন ও প্রটোকল সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন নতুন হাই কমিশনার। বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষকে যোগ করলে আমরা ১৬০ কোটির এক বিশাল শক্তিতে পরিণত হই। আমি কখনোই ভারত ও বাংলাদেশের মানুষকে আলাদা করে ভাবি না। একই আকাশ, একই বাতাস-আমাদের সম্পর্কও তেমনই।

ঢাকায় ভারতীয় মিশনের প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়ে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকারী প্রণয় ভার্মাকে সম্প্রতি বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ জোরদার হয়।বাংলাদেশ-ভারত মিলে বিশ্বে নতুন শক্তি হতে পারে ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের কারণে দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

সাংবাদিকরা সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন ও প্রত্যাবাসন ইস্যুতেও তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নানা ধরনের ইস্যু থাকবেই। বাংলাদেশ ও ভারত-দুটি শক্তিশালী গণতন্ত্র। এই দুই গণতন্ত্র যদি আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে, তাহলে তা অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিশ্বে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে এ জন্য পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।”

বাংলাদেশকে ভারতের ‘বৃহৎ প্রতিবেশী’ হিসেবে উল্লেখ করলে দীনেশ ত্রিবেদী তা সংশোধন করে বলেন, “শক্তি একা কারও নয়। ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে যে শক্তি তৈরি করতে পারে, সেটিই প্রকৃত শক্তি। বিশ্ব যেন সেই শক্তিকে দেখতে পায়।”

তিনি খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও শিক্ষার ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। মজা করে বলেন, “আমরা যদি একসঙ্গে একটি ক্রিকেট দল গঠন করতাম, তাহলে সেটাও দারুণ হতো।”

দীনেশ ত্রিবেদী গুজরাটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। হিমাচল প্রদেশের একটি বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা শেষে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলা ভাষায় সাবলীল এবং দুই বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন। পাশাপাশি একজন দক্ষ সেতারবাদক হিসেবেও পরিচিত।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি কংগ্রেস, জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস এবং পরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী এবং পরে রেলমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও কূটনৈতিক দায়িত্বের নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী।

পূর্বের খবরঅস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
পরবর্তি খবরবাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!