বুধবার বেইজিং আসছেন ট্রাম্প, ইরান ইস্যুতে ‘চাপ দেবেন’ সিকে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ইরান যুদ্ধসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি ইরান ইস্যুতে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে ‘চাপ দেবেন’ তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হোয়াইট হাউসের প্রিন্সিপাল ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার সকালে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং শুক্রবার এই সফর শেষ হবে। যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের শেষের দিকে চীনা নেতাকে ফিরতি সফরে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে।

কেলি বলেন, এই সফরটি ‘অত্যন্ত প্রতীকী তাৎপর্যপূর্ণ’ হবে এবং এটি ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং মার্কিন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে পারস্পরিক স্বার্থ ও ন্যায্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার’ ওপর গুরুত্বারোপ করবে।

ট্রাম্পের এই সফরটি মূলত চলতি বছরের শুরুর দিকে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চ মাসে তা স্থগিত করা হয়। বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশে এবং বিদেশে এই যুদ্ধের প্রভাব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক এমন একটি সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গতকাল রোববার এক বেনামি ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে চীনের ওপর ‘চাপ প্রয়োগ’ করতে পারেন। বিশেষ করে তেল বিক্রি এবং তেহরানের সামরিক-বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য পণ্য ক্রয়ের বিষয়ে।

এদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত সপ্তাহে চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে ‘অর্থায়নের’ অভিযোগ তুলেছেন। বেসেন্ট ফক্স নিউজকে বলেন, ‘ইরান সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক এবং চীন তাদের উৎপাদিত শক্তির ৯০ শতাংশই কিনছে। এর মাধ্যমে তারা প্রকৃতপক্ষে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষককে অর্থায়ন করছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের একটি প্রধান পথকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। চীন জানিয়েছে যে তারা এই যুদ্ধের অবসান চায় এবং গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেইজিং ইরানের তেল খাতের ওপর ওয়াশিংটনের ‘একতরফা’ নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে।

এই যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের আমদানির ওপর নির্ভরশীল এশীয় দেশগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই আলোচনায় ট্রাম্প রাশিয়াকে চীনের সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি তোলার পাশাপাশি বাণিজ্য এবং মার্কিন প্রযুক্তি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেয়ার আর্থ মিনারেলস বা মৃত্তিকা খনিজ নিয়েও কথা বলতে পারেন। বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িং এবং কয়েকটি কৃষিভিত্তিক কোম্পানির ব্যবসায়িক কর্মকর্তারাও মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই সফরে যাচ্ছেন।

সেই বেনামি সরকারি কর্মকর্তা আরও জানান, তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন অবস্থানে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, যা মূলত ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের প্রধান বিরোধপূর্ণ পয়েন্ট। চীন স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে, তবে তাইওয়ানের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

পূর্বের খবরহামে শিশু মৃত্যু ছাড়াল ৪০০
পরবর্তি খবরশুভেন্দুর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক আজ, এজেন্ডায় বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!