ভিনিউজ : ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ার পর গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা, যা একদিনে টোল আদায়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগের দিন মঙ্গলবার ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা টোল আদায় হয় বলে নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এলাকায় ঈদযাত্রা এবার স্বস্তিদায়ক। চিরচেনা যানজট ও দীর্ঘ ভোগান্তির পরিবর্তে ঈদযাত্রা হয়ে উঠেছে আনন্দদায়ক। কোথাও যানজট ছাড়াই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে ৪৫ হাজার ৬০২টি গাড়ি পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে পদ্মা সেতু পার হওয়া ৩০ হাজার ৯৪টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। আর জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পার হওয়া ১৫ হাজার ৫৮০টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫০ টাকা। দুই প্রান্ত মিলে ২৪ ঘন্টায় মোট টোল আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ জুন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পদ্মা সেতু দিয়ে ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন পারাপার হয়। সে সময় টোল আদায় হয় ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা, যা সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, সেতুর দুই প্রান্ত—মাওয়া ও জাজিরা টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ ব্যবস্থায় যানবাহন থামানো ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা হয়। ফলে টোল প্লাজায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়না। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের কারণে যাতায়াত দ্রুত ও সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন শেখ জানান, এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাওয়া টোল প্লাজার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এজন্য ৪৫ দিনের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১০টি গাড়ি টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে। মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি পৃথক লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায় কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও বলেন, যানজট নিরসনে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ ‘বাস বেথ। এখানে একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি বাস দাঁড়াতে পারে। ফলে টোল প্লাজার প্রবেশমুখে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না।
এদিকে এক্সপ্রেসওয়েতে পুলিশের টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।




