ঝিনাইদহে কৃষকদল নেতা নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেফতার, এলাকায় থমথমে অবস্থা

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নারী সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে মারা যান। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র‍্যাব-৬-এর একটি আভিযানিক দল মামলার প্রধান আসামি ডা. মনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীদের একত্রিত হওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
আহত ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সির ভাষ্যমতে, জামায়াত কর্মীরা সেখানে জড়ো হলে প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ইলিয়াস হোসেন কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জামায়াতের নারী ও পুরুষ কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, নারী কর্মীরা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছিল। সেখানে বিএনপি কর্মীরা ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ বাধে এবং তাদেরও ৫-৬ জন কর্মী গুরুতর আহত হন।

উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সিকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে নেয়া হলে শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ দাবি করেছেন, মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী তরু মুন্সির মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং সেই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াত সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করছে, তরু মুন্সি মূলত হামলা করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত (স্ট্রোক) হয়ে মারা গেছেন এবং বিএনপি বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জামায়াত কর্মীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের পর তাদের বেশ কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাব নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল বলেন, আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছি। অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন।
এদিকে শনিবার র‍্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ডা. মনোয়ার হোসেনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে তরু মুন্সী নিহতের ঘটনায় ৫১ জনসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনের নামে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে নিহতের ছেলে শিপন মুন্সী বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৩২।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদৎ হোসেন বলেন, মামলায় মাধবপুর গ্রামের ফারজেল হোসেনের ছেলে জান্নাতুল ইসলাম (২৪), সিরাজুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৫৪) ও পাইকপাড়া গ্রামের মো. ইউসুফ আলী বিশ্বাসের ছেলে মোকলেচুর রহমান (৫৫) নামের ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলায় গ্রেফতারকৃত ৩ আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুল আরেফিন।

পূর্বের খবরবাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা
পরবর্তি খবরহাদির হত্যাকারীদের পালাতে ‘সহায়তাকারী’ ফিলিপ সাংমাও পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার