ভিনিউজ ডেস্ক
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। গান্ধী জয়ন্তীর দিনে দিল্লির যন্তর মন্তরে আম আদমি পার্টি, কংগ্রেস ও বামেদের কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। একই দাবিতে মুম্বইয়ে ককরোচ জনতা পার্টি ‘জেল ভরো’ আন্দোলন করে। কলকাতাতেও পথে নামে বামপন্থী দল ও সংগঠনগুলো।
দিল্লিতে সকাল থেকেই যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তার কারণে জারি করা হয় ১৬৩ ধারা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। যন্তর মন্তরের আশপাশের ১১টি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে গেলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। দুপুর পর্যন্ত ৭০০-র বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে আটক ব্যক্তির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। আটক নেতাদের মধ্যে ছিলেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, আম আদমি পার্টির নেত্রী ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং আইসার নেত্রী নেহা বোরাহ। আপের রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংহকেও আটক করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। বিক্ষোভে বাম ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর কর্মীরাও অংশ নেন।
দিল্লির পাশাপাশি মুম্বইয়েও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বড় কর্মসূচি হয়। ককরোচ জনতা পার্টি আগে ঘোষণা করেছিল, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে গান্ধী জয়ন্তীতে তারা ‘জেল ভরো’ আন্দোলনে নামবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না হওয়ায় শুক্রবার দুপুর থেকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সমর্থকেরা জড়ো হতে শুরু করেন।
এই কর্মসূচিতে দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। অভিনেতা নসীরুদ্দীন শাহ, শবানা আজমি এবং সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দদলানিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মঞ্চ থেকে শবানা আজমি ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বক্তব্য দেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দেন।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুম্বইয়ের পর কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও একই ধরনের কর্মসূচি হবে। চলতি মাসের শেষদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে ফের আন্দোলনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে কলকাতাতেও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পথে নামে বামেরা। এসআইআর নিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁরা প্রতিবাদ জানান। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এসআইআরকে ভোটার তালিকা পরিশুদ্ধ ও হালনাগাদের প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
-সূত্র আনন্দ বাজার




