ভিনিউজ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে দুই দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে ইরান বলছে, আলোচনা এগোলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি ভালো সমঝোতায় পৌঁছেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, চুক্তির ফলে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করার চেষ্টা করছে এবং ইরান তাদের মৌলিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
ট্রাম্পের এই আশাবাদী মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। পাল্টা জবাবে ইরান বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। যদিও এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল, তারপরও দুই দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৯ ডলারে নেমে আসে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সমঝোতা প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তাঁর কার্যালয় জানিয়েছে, আলোচনায় ইসরায়েল কোনো পক্ষ হিসেবে অংশ নেয়নি। ইসরায়েল চায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন সীমিত করা হোক।
এদিকে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া পাকিস্তান, রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, ভারত ও সৌদি আরবও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।




