নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে হয়রানি

লেখা:মাহজাবিন রশীদ

নারী
আরেক অনলাইন ব্যবসায়ী আনিকা (ছদ্মনাম) এবারের ঈদে তাঁর ব্যবসাসংক্রান্ত খারাপ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানালেন, ‘অনলাইনে নতুন কালেকশন নিয়ে লাইভ করার সময় বাবা, স্বামীর রোজগার কিংবা পারিবারিক মর্যাদার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আজেবাজে মন্তব্য আসে। যদিও এগুলো পাশ কাটিয়ে কাজ করে যেতে চেষ্টা করি। তবে এ ধরনের মন্তব্য বড় ধরনের মানসিক ও পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

সানজিদা নামের আরেক ব্যবসায়ীর কথাতেও একই ধরনের বক্তব্য উঠে আসে। এর প্রতিকারে তিনি কী করেন জানতে চাইলে বলেন, ‘প্রথমত এড়িয়ে যাই। এরপরও যদি বারবার কেউ উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে তার সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনে আগ্রহী না, এ কথা জানিয়ে দেই। বাজে কথা বা গালাগাল করলে মাথা ঠান্ডা রেখে জবাব দেয়ার চেষ্টা করি। সেটা সম্ভব না হলে স্রেফ এড়িয়ে যাই।’

অনেকেই সানজিদার মতো দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলাতে পারেন না। অনেক সময় বারবার এড়িয়ে যাওয়া সত্ত্বেও অপরপক্ষ থেকে হয়রানি কমে না। অনেক নারী উদ্যোক্তা ফেক আইডির সঙ্গে ব্যবসায়িক কথা এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেন। তবে সব সময় তা সম্ভব হয় না। আর ব্যবসা করতে এসে এত কিছু এড়িয়ে চলা কঠিন। সবচেয়ে বড় কথা, সমস্যায় অভ্যস্ত হয়ে পড়া বা এড়িয়ে চলা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাই এড়িয়ে যাওয়া কিংবা লুকিয়ে যাওয়ার চেয়ে বেশি দরকার প্রতিকার।

যেহেতু বাংলাদেশে এখন অনলাইন ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বাড়ছে। তাই হয়রানি বন্ধে নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য আইন ও সহযোগিতা কার্যক্রম আরও প্রসারিত করা সময়ের দাবি। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে স্বাভাবিকভাবে এ ধরনের হয়রানি মোকাবেলা করা সহজ হবে। নারীরা আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বস্তি নিয়ে অনলাইনে ব্যবসা করতে পারবেন।