কিশোর অপরাধ : এ সামাজিক ব্যাধি রুখতে হবে

কিশোর অপরাধ

গ্যাং কালচার এখন সামাজিক ও জাতীয় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে কিশোর-তরুণরা বিভিন্ন গ্যাংয়ের মাধ্যমে অপরাধ করছে। প্রতিনিয়ত এমন খবর আমরা পাচ্ছি। গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে রাজধানী সদরঘাট এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধের চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বাহাদুর শাহ পার্ক, লালকুঠি, বাংলাবাজার, ল²ীবাজার, সরকারি কবি নজরুল কলেজের পাশে, শ্যামবাজার, ইসলামপুর, বাবুবাজারসহ সদরঘাট এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন গ্রুপ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। এসব এলাকা বিভিন্ন নামে ১০-১২টি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রত্যেকটি গ্যাংয়ে ২০-৩০-এর বেশি কিশোর রয়েছে। এদের কেউ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছে, কেউ কেউ এখনো পড়ছে। কেউ মাদক মামলার আসামি। পুলিশ তাদের ধরলেও পরে আবার জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। কথিত বড় ভাইদের ছত্রছায়ায় থাকতে আরো বেশি কিশোর গ্যাংয়ে সক্রিয়। তাদের হাতিয়ার ছুরি, চাইনিজ চাকু ও ব্লেড। সন্ধ্যার পর গলিতে দাঁড়িয়ে এসব অস্ত্র দেখিয়ে অপরাধ করছে। বাধা দিলে খুনাখুনির ঘটনাও ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কিশোররা আগামীর ভবিষ্যৎ। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কিশোর সন্ত্রাস নতুন একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানীতে প্রতি মাসে গড়ে ২০টি হত্যার ঘটনা ঘটছে। এর বেশিরভাগ ঘটনায় কিশোর অপরাধীরা জড়িত বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। ঢাকার শিশু আদালতের নথি অনুযায়ী গত ১৫ বছরে রাজধানীতে কিশোর-তরুণদের সিনিয়র-জুনিয়র দ্ব›েদ্ব ৮৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। আর পুলিশের তথ্য মতে, গত ১৭ বছরে ঢাকায় কিশোর অপরাধীদের হাতে ১২০ জন খুন হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিথিল পারিবারিক বন্ধন, মা-বাবার সন্তানকে সময় না দেয়া, সামাজিক অবক্ষয়, স্বল্প বয়সে স্মার্টফোনসহ উন্নত প্রযুক্তি উপকরণের নাগাল পাওয়া, সঙ্গদোষ ইত্যাদি কারণে কিশোরদের অপরাধে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এছাড়া কিশোরদের হাতে পর্যাপ্ত টাকা দেয়া, যৌক্তিকতা বিচার না করেই সব আবদার পূরণ করা এবং সন্তান কী করছে সে বিষয় পর্যবেক্ষণ না করায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে বলে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন। কিশোররা যেন অপরাধে জড়াতে না পারে এবং কেউ তাদের অসৎ কাজে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। এ জন্য সবার আগে পরিবার তথা মা-বাবাকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানরা কী করে, কার সঙ্গে সময় কাটায়- এসব খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানদের অযৌক্তিক আবদার পূরণ করার আগে ভাবতে হবে। স্কুল কারিকুলামের বাইরে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট করা এবং যুক্ত করার সুযোগ বাড়াতে হবে। কিশোর অপরাধ রুখতে ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। যারা ইতোমধ্যে অপরাধ চক্রে জড়িয়ে গেছে, তাদের জন্য উপযুক্ত কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।